বিএনপির দপ্তরে মনোনয়নবঞ্চিতদের অভিযোগ, তৃণমূলে বাড়ছে

প্রকাশিত: ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

বিএনপির দপ্তরে মনোনয়নবঞ্চিতদের অভিযোগ, তৃণমূলে বাড়ছে

Manual7 Ad Code

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে বিএনপির অন্তত অর্ধ শতাধিক আসনে মনোনয়ন নিয়ে তীব্র অন্তর্কোন্দল দেখা দিয়েছে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর একাধিক আসনে মনোনয়নবঞ্চিতরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। অনেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।

Manual3 Ad Code

অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয়, বয়োবৃদ্ধ, বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী নেতাদের মনোনয়ন দিয়ে ত্যাগী, অপেক্ষাকৃত তরুণ ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি বাড়ছে, যার রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে প্রতিপক্ষরা।এই প্রেক্ষাপটে দুই ধাপে ঘোষিত ২৭২টি আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকেছে বিএনপি। প্রথম ধাপে গতকাল বুধবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দলটি। এতে নির্বাচনি প্রচারণার কৌশলসহ সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। মতবিনিময় সভায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য উন্নয়ন সেবা—এই আট বিষয়ে দলের পরিকল্পনা প্রার্থীদের জানানো হয়।

গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরো ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। পরে একটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের মাধ্যমে মোট ২৭২টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তবে গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা ২৭১। বাকি ২৯টি আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল ও নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Manual7 Ad Code

এদিকে প্রথম দফা সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করে প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে আসছে। বঞ্চিতদের অভিযোগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে নব্য, হাইব্রিড, বয়োবৃদ্ধ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক অক্ষমতা কিংবা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও কোথাও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও আনা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন আইনুল হক। তবে তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। তাদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী আইনুল হকের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১২ আসনে মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক এনামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন ৬৮০ জন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা। তারা এনামকে চাঁদাবাজ ও বিতর্কিত উল্লেখ করে বলেন, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ত্রাস সৃষ্টি, মাদকের রাজত্ব কায়েম, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের ঘনিষ্ঠতার কারণে পটিয়া পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় তার বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তি রয়েছে।

Manual1 Ad Code

পটিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা মিজবাহুল চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার বিএনপি নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদের মতো ত্যাগী নেতারা এ আসনে মনোনয়নের দাবিদার ছিলেন।এদিকে গত ২৩ নভেম্বর দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন একই আসনের তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী—জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ কালু এবং প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম। তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পিনাক চৌধুরী ব্যবসায়িক সুবিধা ভোগ করেছেন এবং ২০২৩ সালে একমাত্র মামলায় জামিন পেয়ে আর কারাবরণ করতে হয়নি। আওয়ামী লীগের নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সুপারিশে তিনি মুক্তি পান বলেও অভিযোগ করা হয়। এর ফলস্বরূপ তিনি খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার একটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন।অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মিল-কারখানা থেকে চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নিজ দলীয় কর্মীকে হত্যাচেষ্টা ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপি নেতা ইসমাইল চৌধুরী বলেন, বিরল উপজেলায় ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও পিনাক চৌধুরীর বাড়ি বোচাগঞ্জ উপজেলায় হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন। তার মতে, ত্যাগী নেতা মোজাহারুল ইসলাম কিংবা বজলুর রশিদ কালুকে মনোনয়ন দিলে ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে। 

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ