সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা লু ট, উদ্ধার নেই

প্রকাশিত: ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১০, ২০২৬

সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা লু ট, উদ্ধার নেই

Manual8 Ad Code

সিলেট মহানগর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি মো. নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটির বেশি টাকা ছিনতাই হলেও এখনো এক টাকাও উদ্ধার হয়নি। অথচ ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরিয়েছে। এরমধ্যে বিকাশের ৮জন কর্মীসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আর কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

 

শনিবার (৯ মে) রাতে   আলাপকালে এমন তথ্যই জানালেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।

 

তিনি দাবি করেছেন, টাকা উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় সিলেট বিভাগজুড়ে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা।

 

নাসিম হোসাইন বিকাশ বাংলাদেশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বিকাশ অ্যাজেন্টের কাছে মোট ৮১ লাখ ৮২ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন তিনি।

 

Manual6 Ad Code

সকাল পৌনে ১১টার দিকে তারা একটি প্রাইভেট কারে মোগলাবাজার থানার পারাইরচক লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী তাদেরকে গাড়ি থামানোর সংকেত দেয়। ড্রাইভার গাড়ির গতি কমালে ওই তিন ব্যক্তি ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে এবং একজনকে মারপিট করে ৫টি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় নাসিম হোসাইন একটি অভিযোগ (নং ৩/৮/৫/২৬) দায়ের করলে সন্দেহভাজন হিসাবে ৮ বিকাশ কর্মীসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোগলাবাজার থানার শেখপাড়া গ্রামের মৃত শফিকুর রহমান ও রাহেলা বেগমের ছেলে শাহেদ আহমদ (৪২), মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার নূরজাহান চা বাগানের মৃত সৈয়দ আহমদ ও মৃত আয়শা বেগমের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাট থানার সদর ইউনিয়নের কচুপাড়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে আদনান (৩৮), একই থানার লালারচক গ্রামের নবীব আলী ও আছমা বেগমের ছেলে আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের কড়ইমোড়া গ্রামের প্রমেশ বিশ্বাস ও সোনামতি বিশ্বাসের ছেলে রূপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার সদরখলা গ্রামের সামছু মিয়া ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে রোমান আহমদ (৪৪), মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার কালাইগুল গ্রামের তজমুল আলীর ছেলে সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের বাউনপুর গ্রামের নজির আহমদ ও  সাফিয়া বেগমের ছেলে গোলাম শহীদ (২৯), কানাইঘাটের কচুপাড়া গ্রামের রফিক আহমদ ও রেনু বেগমের ছেলে জুনায়েদ (২২)।

এদিকে এ ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেটের সর্বত্র তুমুল আলোচনা সমালোচনা চলছে। পুলিশের দিকেও আঙ্গুল তুলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ।

Manual7 Ad Code

 

তারা বলছে, ২৪ ঘন্টার বেশি পেরিয়ে গেলেও বিকাশ কর্মীর বাইরে জড়িত অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। এটা সাধারণ নাগরিকদের জন্য হতাশার। কোনো টাকাও উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

 

Manual3 Ad Code

ক্ষমতাসীন দলের একজন শীর্ষ নেতার ক্ষেত্রে যদি এমনটা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটুকু? এমন প্রশ্নও তুলতে শুরু করেছেন সচেতন মহল।

 

Manual1 Ad Code

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারনা, বিকাশ কর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করেই এই ঘটনা ঘটনানো হতে পারে। বিশেষ করে টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) গাড়িটির সাথে না থাকায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। তাছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহীদের আহ্বান গাড়িটির গতি কমানোরইবা কি প্রয়োজন ছিল? এই প্রশ্নের জবাবও খুঁজছে তারা।

 

এ ব্যাপারে নাসিম হোসাইন  বলেছেন, এখনো বিকাশ কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে আটক করা হয়নি। কোনো টাকাও উদ্ধার করা হয়নি। আমি দ্রæত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার এবং টাকা উদ্ধারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।