এলপিজি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হবে

প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

এলপিজি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হবে

Manual6 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১০ লাখ টনের বেশি এলপিজি কিনবে সরকার। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সেই চুক্তি করতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেন জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও। সরকারের পক্ষে তিনি ওই চুক্তিতে সই করবেন।

Manual8 Ad Code

জ্বালানি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য জায়গার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সস্তায় এলপিজি পাওয়া যায়। সেখান থেকে এলপিজি কিনলে বাংলাদেশের জনগণ উপকৃত হবে। কারণ এলপিজির পুরো বাজার বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। এখানে সরকারিভাবে এলপিজি সরবরাহ থাকলে বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।

Manual1 Ad Code

১২ বা ১৩ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে এলপিজি কেনার চুক্তি করা হবে। প্রাথমিকভাবে মাসে ৪৫ হাজার টন এবং পরবর্তীকালে ৭৫ হাজার টন এলপিজি কিনতে চায় সরকার। প্রতি মাসে দেশে এলপিজির চাহিদা দেড় লাখ টনের বেশি।

এর ৯২ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করে দেশের ৪০টির বেশি কোম্পানি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর ১২ কেজি সিলিন্ডারে এলপিজির দাম এক লাফে ৪০০ টাকার বেশি বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিজির বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতে থাকার কারণে অনেক কোম্পানি একজোট হয়ে এখানে দামের কারসাজি করতে পারে।

Manual6 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় এ এলপিজি কেনা বাধ্যতামূলক কিনা এর জবাবে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সে রকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার অন্যতম কারণ হচ্ছে সেখানে এলপিজি একেবারে সস্তা। এলপিজি হচ্ছে তেল রিফাইনারির একটি উপজাত। কিন্তু বাংলাদেশে পরিবহণ করে আনার খরচ কত পড়ে তা বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এলপিজির কোনো ব্যবসা করে না। কিন্তু বেসরকারি কোনো কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার এলপিজি কেনার সমঝোতা করলে সেখানে ওই দেশের সরকার যাতে সহায়তা করে সেই জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বেসরকারি কোনো কোম্পানির সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো সমাঝোতা হয়নি। গত মাসে এ ব্যাপারে মার্কিন দুই বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে এসে জ্বালানি বিভাগে তাদের মতামত দিয়ে গেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলপিজির একটি বড় জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনলে মাতারবাড়ি বন্দরে খালাস করতে পারবে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এটা বেশ কঠিন-কারণ সেই বন্দরে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লাবাহী জাহাজ বছরের প্রায় বেশির ভাগ দিন থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কীভাবে এলপিজি আমদানি হবে এবং কারা করবে তার কিছুই এখনো ঠিক হয়নি। তবে সরকারের একটি পক্ষ জানাচ্ছে, এতে করে বাংলাদেশ লাভবান হবে। জ্বালানি বিভাগ জানায়, আসলে লাভবান হবে কিনা তার হিসাব এখনো করা হয়নি।

Manual3 Ad Code