ঝড়-বজ্রপাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গ, ১৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬

ঝড়-বজ্রপাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গ, ১৩ জনের মৃত্যু

Manual2 Ad Code

প্রবল বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। একই সঙ্গে প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে কলকাতা শহর। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যানবাহন, ব্যাহত হয়েছে সড়ক চলাচল।

 

সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছিল। দুপুর গড়াতেই হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে আসে। এরপর শুরু হয় প্রবল ঝড়বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল ঘন ঘন বজ্রপাত। কয়েক ঘণ্টার এই দুর্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

Manual4 Ad Code

রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বজ্রাঘাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, পুরুলিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায়। মাঠে কাজ করার সময়, গবাদিপশু আনতে গিয়ে কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থানের সময় অনেকেই বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন।

কোচবিহারে বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামে একই সময়ে বজ্রপাতের একাধিক ঘটনা ঘটে।

Manual3 Ad Code

মুর্শিদাবাদে নদীপথে চলাচলকারী একটি নৌকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন যাত্রী।

Manual2 Ad Code

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়বৃষ্টির সময় নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়ায় বজ্রাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন বন্ধু একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে একজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, কলকাতায় ঝড়ের তাণ্ডবে বহু এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। ধর্মতলা, মৌলালি, ডাফরিন রোড, হাইকোর্ট চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। হাইকোর্ট এলাকার পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিয়ালদহ রেলস্টেশন চত্বরেও ঝড়ের প্রভাব দেখা যায়। বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনাও ঘটে। কলকাতা পৌর কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেন। রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতায় ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। বিভিন্ন জেলায় বাতাসের গতি ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদেরও সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড় অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় খোলা মাঠ, জলাশয় ও গাছের নিচে অবস্থান না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

 

Manual6 Ad Code