ঢাকা ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২৬
ডেস্ক নিউজ : আগামী ২১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর। খসড়া সূচি অনুযায়ী, তিনি প্রথমে দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাবেন এবং সেখান থেকে সরাসরি পাঁচ দিনের সফরে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সফরে মালয়েশিয়া ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদানসহ বহুবিধ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরের বিস্তারিত খসড়া সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো:
মালয়েশিয়া সফর: ২১ ও ২২ জুন
রোববার, ২১ জুন: মালয়েশিয়ায় আগমন
দুপুর ০২:৪৫ – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি৩৮৬) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে প্রস্থান।
রাত ০৮:৪৫ – কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া ভিভিআইপি কমপ্লেক্সে পৌঁছাবেন। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন মালয়েশিয়ার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী সিনেটর ড. জুলকিফলি হাসান। বিমানবন্দরে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
রাত ০৯:৫০ – সফরকালীন বাসস্থান কুয়ালালামপুরের শাংরি লা হোটেলে পৌঁছাবেন।
সোমবার, ২২ জুন : দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও বাণিজ্যিক সাক্ষাৎ
সকাল ০৮:২০ – হোটেল থেকে পুত্রাজায়ার ‘পেরদানা পুত্রা’-র উদ্দেশ্যে প্রস্থান।
সকাল ০৯:০০ – ০৯:৩০ – পেরদানা স্কয়ারে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং পুনরায় গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মূল ভবনে প্রবেশ করে ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করবেন।
সকাল ০৯:৩০ – ০৯:৪৫ – দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত (সীমিত) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ০৯:৪৫ – ১০:৩০ – দুই দেশের প্রতিনিধিদল পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
সকাল ১০:৩০ – ১০:৪০ – দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি বিনিময় প্রত্যক্ষকরণ। সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত ৩টি সমঝোতা স্মারক ও ১টি নোট বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে।
সকাল ১০:৪০ – ১১:০০ – দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন (কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে না)।
সকাল ১১:১৫ – দুপুর ১২:১৫ – মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তার সরকারি বাসভন ‘সেরি পেরদানা কমপ্লেক্স’-এ মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ ও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ।
দুপুর ১২:১৫ – মালয়েশিয়ার রাজা মহামান্য সুলতান ইব্রাহিম ইবনি আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
দুপুর ০১:০০ – ০১:৪৫ – হোটেল শাংরি লা-তে এমএমসি পোর্টস, এয়ার এশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যানদের সাথে পর্যায়ক্রমে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
চীন সফর: ২২ থেকে ২৬ জুন
সোমবার, ২২ জুন : ডালিয়ানে আগমন
বিকেল ০৩:০০ – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে (বিজি১৬০১) কুয়ালালামপুর থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী।
রাত ০৯:০০ – চীনের ডালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখানে তাকে স্টেট ভাইস-গভর্নর এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অভ্যর্থনা জানাবেন।
রাত ০৯:৫০ – বিমানবন্দর থেকে ডালিয়ানের হোটেল ‘শাংরি লা’-তে পৌঁছাবেন এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করবেন।
মঙ্গলবার, ২৩ জুন : ডব্লিউইএফ-এর সিইও ও বিশ্বনেতাদের সাথে সাক্ষাৎ
সকাল ১০:০০ – ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট এবং সিইও মিস্টার আলোইস জুইংগি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিকেল ০৫:০০ – সন্ধ্যা ০৬:০০ – ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পটভূমিতে জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রথম বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন।
সন্ধ্যা ০৬:৩০ – চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার কর্তৃক আয়োজিত স্বাগত সংর্বধনায় যোগদান। এছাড়া এদিন গিনি, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কাজাখস্তানের সরকার প্রধানদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।
বুধবার, ২৪ জুন : সামার ডাভোস ও বেইজিং যাত্রা
সকাল ১০:০০ – ১০:৪৫ – ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (সামার ডাভোস) নতুন চ্যাম্পিয়নদের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ।
সকাল ১১:১০ – বেলা ১২:০০ – চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানদের সাথে বৈঠক।
দুপুর ০১:৫৮ – হাই-স্পিড ট্রেনের মাধ্যমে ডালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
বিকেল ৫:৩৬ মিনিটে বেইজিং চাওমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবেন।
সন্ধ্যা ০৬:২৫ – বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’-তে আগমন।
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন: বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ও শীর্ষ বৈঠক
সকাল (সম্ভাবনা) – চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান (আইপিডিসি), পানিসম্পদ মন্ত্রী, সিআইডিসিএ-এর চেয়ারম্যান এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক।
সকাল ১১:০০ – দুপুর ১২:০০ – ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশগ্রহণ এবং চেরি গ্রুপ, হ্যান্ডা গ্রুপ ও চায়নাটেক্স কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ।
বিকেল ০৫:০০ – ০৫:৪৫ – গ্রেট হল অব পিপল-এ চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াং-এর সাথে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
বিকেল ০৫:৪৫ – দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীতে প্রিমিয়ার লি ছিয়াং কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ।
শুক্রবার, ২৬ জুন: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক ও ঢাকা প্রত্যাবর্তন
সকাল ০৯:৩০ – ১০:০০ – ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে সাক্ষাৎ।
সকাল ১০:৩০ – ১১:১০ – চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে গ্রেট হল অব পিপল-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী।
সকাল ১১:৪০ – বেলা ১২:১০ – মিউজিয়াম অব দ্য সিপিসি পরিদর্শন। উল্লেখযোগ্য যে, এই মিউজিয়ামে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি প্রতিকৃতি প্রদর্শিত রয়েছে।
বিকেল ০৫:০০ – বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন-এর (ফ্লাইট নম্বর: সিজেট০০৯) বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রস্থান।
রাত ০৮:১৫ – ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মাধ্যমে এই দুই দেশ সফর সমাপ্ত হবে।
অন্যান্য তথ্য: সফরকালে বেইজিং মিশন প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভেনিস ওয়াটার সিটি, গ্রেট ওয়াল বা ফরবিডেন সিটি পরিদর্শনের সুযোগ রাখতে পারেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ফার্স্ট স্পাউস (পত্নী/পতি)-এর জন্য ডালিয়ান ও বেইজিং উভয় প্রান্তেই আলাদা কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করছে বেইজিং মিশন।
Design and developed by sylhetalltimenews.com