প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬

প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

Manual7 Ad Code

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে।

তিনি বলেন, সরকারের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সারা দেশে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে এসব পদে খালি হতে যাওয়া পদসহ আরও ৩৮ হাজার ৪৪৩টি পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত রায়ের বিবরণ ও সরকারের পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আপিল বিভাগ ‘সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩ মামলায়’ সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতার অবসান ঘটে মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ অধিকার ফেরত পেয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৩ সালের নিয়োগবিধির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধি ৯(১)-এর চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট বিধানটি বেআইনি ঘোষণা করলে সরকার পক্ষ আপিল করে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ ‘স্ট্যাটাস কো’ আদেশ দেওয়ায় সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে যায়।

Manual8 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দীর্ঘ ৯ বছর মামলাজনিত কারণে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি স্কুলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রায় ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘিœত করে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছেন। আজ বিকালের মধ্যেই পিএসসিতে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। পিএসসি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নিয়োগ ও পদোন্নতি দ্রুত সম্পন্ন করবে।

বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের মোট ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর মামলাজনিত কারণে এই ৮০ শতাংশ কোটার পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য হয়ে পড়ে, যা এই রায়ের ফলে এখন দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

Manual4 Ad Code

ইতিমধ্যে প্রক্রিয়ায় থাকা প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা তাদের দ্রুত ট্রেনিংয়ে পাঠাবো। ইমিডিয়েটলি তাদের এই ট্রেনিং হবে ২ মাসের।’ মন্ত্রী জানান, মূলত প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সংকটের কারণে প্রথাগত দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিংয়ের পরিবর্তে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ২ মাসের সংক্ষিপ্ত ট্রেনিং শেষ করার পরপরই শিক্ষকেরা সরাসরি বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের সেশন জট এড়াতে প্রচলিত ৯ মাসের পিটিআই ট্রেনিংয়ের পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ২ মাসের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং দিয়ে তাদের সরাসরি বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।

Manual8 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিগত চার মাস ধরে আমরা এই জটিলতা থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ের কারণে আজ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করল। আমরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত।’

 

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ