ফের আন্দোলনে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২৫

ফের আন্দোলনে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

Manual7 Ad Code

এসএটিনিউজ ডেস্ক :: কাঙ্ক্ষিত গ্রেড বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পেয়ে আবারও আন্দোলনে নামার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা।

Manual2 Ad Code

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘লাগাতার’ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামের চারটি সংগঠনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) ও সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তৃতীয় ধাপে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকরা।

Manual3 Ad Code

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ‘শহীদ মিনারে কয়েক হাজার শিক্ষক দশম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির অধিকার আদায়ে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকে পথে, তারা যোগ দেবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মকর্তারা আলোচনা করতে চাইলেও আমরা আর আলোচনায় যাব না। বহুবার কথা হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি। এবার রাজপথেই দাবি আদায় করে ফিরব।

Manual2 Ad Code

সহকারী শিক্ষকদের ৩ দফা দাবিগুলো হল- ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

Manual3 Ad Code

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা তিন লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে দশম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এ পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন সহকারী শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, নার্স, কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি নিয়েই দশম গ্রেড পাচ্ছেন। অথচ, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক ডিগ্রি ছাড়াও সিএনএড, বিপিএড বা বিটিপিটি কোর্স সম্পন্ন করেও ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন পান। তাই আমরাও ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।

এদিকে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডে জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা দিয়েছে। তাদের তিন দাবি মানা না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ