ঢাকা ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬
ডেস্ক নিউজ : টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলায় ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ। দুর্গত এলাকায় চাল, শুকনা খাবার, নগদ অর্থ, শিশুখাদ্য ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ ও বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা।
এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে।
বর্তমানে পানিবন্দি রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন। দুর্গত মানুষের জন্য খোলা ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ।
জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন নিহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।
ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে চাল, শুকনা খাবার, নগদ অর্থ, শিশুখাদ্য ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ ও বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় শত শত মেট্রিক টন চাল, হাজার হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট এবং কোটি টাকার নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
ত্রাণ বরাদ্দের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা সর্বোচ্চ সহায়তা পেয়েছে। জেলাটির জন্য ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫ হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কক্সবাজারে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রাঙামাটিতে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ২৫ লাখ টাকা, বান্দরবানে ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা এবং খাগড়াছড়িতে ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে এসব বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী আরও মানবিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
Design and developed by sylhetalltimenews.com