অলিম্পিকজয়ী মার্গারিটা ফিরছেন শিকড়ে

প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬

অলিম্পিকজয়ী মার্গারিটা ফিরছেন শিকড়ে

Manual6 Ad Code

রিও অলিম্পিকের সোনালি মঞ্চ থেকে বহু দূরের এক বাংলার উঠোনে ফিরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মার্গারিটা মামুন। মঙ্গলবার বিকালে ঢাকায় নামার কথা তার।

 

তবে এবারের সফর কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সংবর্ধনা বা আনুষ্ঠানিকতার নয়। এটি এক অলিম্পিকজয়ী মেয়ের নিজের শিকড়, নিজের মানুষ ও হারিয়ে যাওয়া বাবার স্মৃতির কাছে ফিরে আসার সফর।

রাশিয়ার হয়ে ২০১৬ সালে অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে স্বর্ণপদক জিতে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন মার্গারিটা। সেই সাফল্যের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন রাশিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। কিন্তু তার পরিচয়ের আরেকটি অংশ সবসময়ই ছিল বাংলাদেশ।

Manual2 Ad Code

মার্গারিটার বাবা আবদুল্লাহ মামুন ছিলেন বাংলাদেশের মানুষ। তার জন্ম রাজশাহীর দুর্গাপুরে। ১৯৮৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। সেখানে তার পরিচয় হয় রুশ নারী আনার সঙ্গে। পরে তাদের বিয়ে হয়। জন্ম নেন মার্গারিটা। দূরদেশে বড় হলেও বাবার মুখে শোনা বাংলাদেশের গল্প, গ্রামের বাড়ি, আত্মীয়স্বজন ও বাংলা সংস্কৃতি তার ভেতরে অন্যরকম এক টান তৈরি করেছিল।

একাধিক সাক্ষাৎকারে মার্গারিটা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় আমার রক্তে ও মনে।’ তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত পরিচয়কে কখনও লুকাননি। বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়েও বহুবার বলেছেন, তার শিকড় বাংলাদেশের মাটিতে।

Manual5 Ad Code

এবারের সফরের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ হবে রাজশাহীতে তার দাদার বাড়িতে যাওয়া। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানে কাটাবেন কিছু সময়। দাদার বাড়ির সেই পুরোনো উঠান, ঘর, গাছ, গ্রামের পথ সবকিছুই তার কাছে যেন বাবার ফেলে যাওয়া স্মৃতির আরেকটি দরজা।

২০১৬ সালের আগস্টে অলিম্পিক থেকে স্বর্ণ জিতে ফেরার কিছুদিন পরই মারা যান তার বাবা মামুন। বয়স হয়েছিল মাত্র ৫২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন।

মার্গারিটার ঘনিষ্ঠজনদের ভাষায়, বাবার মৃত্যু তার জীবনে সবচেয়ে বড় শূন্যতা। কারণ, আবদুল্লাহ আল মামুনের ইচ্ছা ছিল মেয়েকে নিয়ে আবার বাংলাদেশে ফেরা। তিনি চেয়েছিলেন, মার্গারিটা যেন নিজের দাদার বাড়ি দেখে, আত্মীয়দের সঙ্গে পরিচিত হন, নিজের শিকড়কে চিনতে পারেন। কিন্তু অসুস্থতা তাকে সেই সুযোগ দেয়নি।

তাই এটা অনেকটা বাবার অসমাপ্ত ইচ্ছা পূরণেরও সফর। জানা গেছে, ঢাকায় নেমে তিনি একটি ব্যক্তিগত শুটে অংশ নেবেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজশাহীতে যাবেন। সেখানে হয়তো তিনি পুরোনো অ্যালবাম দেখবেন, বাবার ব্যবহৃত কোনো জিনিস হাতে নেবেন, আত্মীয়দের কাছ থেকে শুনবেন তার বাবার ছোটবেলার গল্প। হয়তো নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবেন সেই উঠোনে, যেখানে কোনো একসময় খেলেছেন তার বাবা।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশে এর আগেও এসেছেন মার্গারিটা। ২০০৯ সালে প্রথমবার এসেছিলেন। পরে ২০২১ সালে দক্ষিণ এশীয় জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষ্যে ঢাকায় এসে বলেছিলেন, বাংলাদেশের জিমন্যাস্টিকসের জন্য কিছু করতে চান। কিন্তু এবার তার সফর ভিন্ন।

এটা শুধু একজন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের দেশে ফেরা নয়; এটি এক মেয়ের, বহুদিন পর, বাবার স্মৃতি ও নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে আসার গল্প।

 

Manual3 Ad Code