‘শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য কমিটিতে সেক্রেটারি ছিলেন গোলাম আজম’

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

‘শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য কমিটিতে সেক্রেটারি ছিলেন গোলাম আজম’

Manual1 Ad Code

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছিল।

Manual4 Ad Code

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব দাবি করেন।

শাজাহান চৌধুরী বলেন, মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল। সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আজম এবং জামায়াতে ইসলাম ছিল। সেই জোটের একটি সংগঠন আর জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আবদুস সামাদ আজাদ সাহেব।

এই সংসদ সদস্য বলেছেন, আপনারা বলেছেন— আমরা জঙ্গি। জনগণ ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যে প্রমাণ করেছেন জামাত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন নয়।

Manual3 Ad Code

শাজাহান চৌধুরী বলেন, আজ কথা উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে, স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাই এই মহান সংসদে মেহেরবানি করে, দয়া করে অতীতের ইতিহাস নিয়ে বর্তমান এই জামায়াত ইসলামীকে বিশ্লেষণ করে জামায়াতকে দোষারোপ করার চেষ্টা করা— আমার মনে হয় মোটেই ঠিক হবে না। কারণ জামায়াতে ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে যেখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, সেখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করা জন্য জামায়াত ইসলামী আন্দোলন করেছে।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব যখন আগরতলার ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন, তখন তখনকার জামায়াত ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল। শুধু আন্দোলন নয়, আমাদের সাবেক আমির আন্দোলনের নেতা— যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের জন্যে ১৯৭২ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৭৬ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল। সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আজম এবং জামায়াতে ইসলাম ছিল। সেই জোটের একটি সংগঠন আর জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেব। শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ যোগান দিয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তান আমলে জামায়াতে ইসলামী। তাই জামাতের ইতিহাস হচ্ছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ইতিহাস, জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস হচ্ছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। জামায়াতে ইসলামীকে আপনারা বারবার অনেক তকমা দিয়েছিলেন। কোনো তকমা-ই জনগণ বিশ্বাস করে নাই।

Manual7 Ad Code

জামায়াতে ইসলামী জঙ্গি সংগঠন নয় দাবি করে সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী বলেন, আপনারা বলেছেন আমরা জঙ্গি। জনগণ ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যে প্রমাণ করেছে জামায়াতে ইসলামী জঙ্গি সংগঠন নয়। জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে শুধু এতটুকু বলতে চাই— ভুলে গেলে চলবে না ১৯৯৭ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বৃহত্তর বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গেলেন অবরুদ্ধ করে ফেলে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার। যারা বাংলাদেশে জঙ্গি কায়েম করেছিল তারাই বেগম খালেদা জিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অবরুদ্ধ করেছিল, আজ আমাদের মরহুম শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে আছেন হুম্মাম কাদের। আমাদের সম্মানিত অর্থমন্ত্রী চট্টলার কৃতি সন্তান যার পরিবারে উনার আব্বা নয়, উনার দাদা থেকেই সম্মান উনারা পেয়ে আসছেন। সেরকম সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান উনিও। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মেডিকেল কলেজে ছিলেন। আজ সম্মানিত অর্থমন্ত্রী আপনি স্বীকার করবেন। সর্বপ্রথম টেলিফোন করেছিল মরহুম শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, আমি শাজাহান চৌধুরী। আমি তো জামায়াত, শিবির। কিন্তু সেদিন আমরা জামায়াত-শিবিরেরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আহ্বানে আমরা উদ্ধার করেছিলাম। আজ স্বাধীনতার কথা বলা হয় সর্বপ্রথম একটি মাত্র রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার কোন পথে আসবে এই ব্যাপারে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তান থেকে যিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন প্রফেসর গোলাম আজম। ১৯৭০ সালের নির্বাচন হলো, নির্বাচনের পর সর্বপ্রথম একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে— সমস্ত পত্রিকা সাক্ষী— ট্রান্সফার টু পাওয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা সেদিন বলেছিলাম সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে আওয়ামী লীগকে যেহেতু জনগণ রায় দিয়েছে তাই শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।