ঢাকা ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সোমবার ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ‘অসতর্ক পদক্ষেপ’ নেয়, তাহলে ভারত ‘ইতিহাসে বিলীন হয়ে যাবে’ এবং তার ভৌগোলিক অবস্থানও ‘পরিবর্তিত’ হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। জিও নিউজের অনুষ্ঠান ‘ক্যাপিটাল টক’-এ আসিফ গত বছরের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২২শে এপ্রিল পেহেলগাম হামলা দিয়ে শুরু হওয়া ওই সামরিক সংঘাতে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির আগে পাকিস্তান ‘সুনির্দিষ্ট বিজয়’ অর্জন করেছে। পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ভারতকে তখন ‘ধ্বংসাত্মক জবাব’ দিয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। ওই মন্তব্যে দ্বিবেদী বলেন, পাকিস্তানকে ঠিক করতে হবে তারা ‘ভূগোলের অংশ হতে চায় নাকি ইতিহাসের অংশ হতে চায়।’
এ বিষয়ে আসিফ বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান তার হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মারকা-ই-হক চলাকালে ভারত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। খাজা আসিফ ভারতীয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একজন শীর্ষ নেতার আলোচনার সুযোগ রাখার আহ্বান সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতে সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন সমালোচনামূলক কণ্ঠ রয়েছে এবং দেশটির সেনাবাহিনী ও নাগরিক সমাজের অবস্থান এক নয়। তিনি আরও বলেন- বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা- যাদেরকে ভারত একসময় নিজেদের ‘বর্ধিত অংশ’ হিসেবে ভাবত- এখন আর সেই সম্পর্ক নেই। ভারত এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্বস্তিতে রয়েছে। এদিকে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান আঞ্চলিকভাবে উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে।ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক বা সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের উদ্দেশ্যের মধ্যে কিছু মিল থাকতে পারে। তিনি বলেন, ইসরাইল চায় না এ অঞ্চলে তার সহযোগী ভারত ছাড়া আর কেউ শক্তিশালী হোক। খাজা আসিফ আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৬৬ বছর ধরে চলা সিন্ধু পানিচুক্তি (ইন্দুস ওয়াটার্স ট্রিটি) এবং সম্প্রতি পারমানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের পক্ষে গেছে। তিনি বলেন, এই চুক্তির শক্তিশালী বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটি একতরফাভাবে স্থগিত করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আবার ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ধারণা যুদ্ধ আর হবে না। তিনি বলেন, ইসরাইল চায় ইরান বা অন্য কয়েকটি দেশের ওপর আবার হামলা হোক। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অবস্থান খুব স্পষ্ট। তারা ইসরাইলের যুদ্ধ লড়তে চায় না। তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো যুদ্ধ টিকতে পারে না। ইসরাইলের প্রকৃত শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরাইল স্থিতিশীল থাকতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পরাশক্তির পাকিস্তানের ওপর আস্থা রাখা একটি বড় অর্জন। একইভাবে ইরানও পাকিস্তানের ওপর আস্থা রাখে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, চীন ও রাশিয়া- পাকিস্তানের এসব বন্ধুদেশ চায় না ইরানে আবার যুদ্ধ ফিরে আসুক।
Design and developed by sylhetalltimenews.com