ঢাকা ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৬
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবি নিয়ে মজুরি বোর্ডে আলোচনা হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরে শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীতে শ্রমিকদের জন্য ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে অনুমোদিত সারসংক্ষেপ তার কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজ শুরু হবে।
চলমান শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সংকট সমাধানে শ্রমিক সংগঠন ও মালিকপক্ষ আন্তরিক সহযোগিতা করছে। অল্প সময়ের নোটিশে শ্রমিক নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। একইভাবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উপস্থিত হয়েছেন। উভয় পক্ষের সহযোগিতায় কারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও যেসব শ্রমিক কারাবরণ করেছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। তবে ভিডিও ফুটেজে যাদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মজুরি নির্ধারণের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার দুপুর ১২টার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। আগামী চার দিনের মধ্যে আবারও মজুরি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং মালিকদের শিল্প পরিচালনার সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, শিল্পকারখানা সচল থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে অথবা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে হবে। যথাযথ সাড়া না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই সরাসরি কর্মবিরতি কিংবা অচলাবস্থা সৃষ্টি করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো পুনরায় খুলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ এলাকার কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার জন্য উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের গার্মেন্টস শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা কিংবা শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ মেনে নেবে বলে তিনি আশাবাদী। কারণ, বোর্ডে দুই পক্ষেরই প্রতিনিধি রয়েছেন এবং তারা সুপারিশ মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বানে সাড়া না দিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ সহযোগিতা করলে শ্রমিকরাও কাজে ফেরার আহ্বানে সাড়া দেবেন বলে তিনি আশা করছেন।
সবশেষে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী।
Design and developed by sylhetalltimenews.com