ঢাকা ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
সিলেট নগরের রায়নগরে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মোরসালিন জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মানচিত্র ডাউনলোড করুন
গত ১২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানায়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সুরাইয়া বেগম এবং পরে আব্দুস সাত্তারও ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এরপর বাবুল পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।
ঘটনার তিনদিন পর ১৪ আগস্ট রাতে নিহত দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। তবে মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম ছিল না।
১৬ আগস্ট সকালে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
পরে ২০ আগস্ট তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি জানান, চুরি করতে ওই বাসায় গিয়েছিলেন এবং চুরি করার সময় দেখে ফেলায় একে একে তিনজনকে হত্যা করেন।
পুলিশের তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই নিহতের পরিবার অসন্তোষ প্রকাশ করে। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে এসব বিষয়ে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের পর ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। ঘটনার দিন তিনি ওই বাসায় গেলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
Design and developed by sylhetalltimenews.com