ঢাকা ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২৬
নানা সমস্যায় জর্জরিত গোলাপগঞ্জের হিজড়ারা। তাদের নেই কোনো নিজস্ব ভূমি কিংবা বাসস্থান। পাচ্ছে না হিজড়াভাতা ও সরকারী কোন অনুদান। বাসা ভাড়া নিতে গেলে সহজে কেউ দিতে চায় না। আবার কেথাও বাসা পেলে দেখতে হয় মালিকের চোখ রাঙ্গানী।
এসব সমস্যা ও বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে ইউএনও’ কার্যালয়ে গিয়েছিলেন গোলাপগঞ্জের হিজড়ারা। এসময় তাদের কথা শুনে ইউএনও’ সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জানা যায়, দীর্ঘ ১০ বছর থেকে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের পুরকায়স্থ বাজার ও পৌর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করেন ১০ জন হিজড়া। এসব কলোনীতে বসবাস করলেও প্রায় সময় দেখতে হয় মালিকের চোখ রাঙ্গানী। তারা সরকারীভাবে তেমন কোন সুবিধা পাচ্ছেন না।
হিজড়ারা জানান, উপজেলায় রয়েছেন ১০ জন হিজড়া। এরমধ্যে মাত্র ৪জন পেয়েছেন হিজড়া ভাতার কার্ড। এছাড়া তারা সরকারী চাল, শীতের কম্বলসহ কোন অনুদান পাচ্ছেন না। ২ বছর আগে কয়েকজন হিজড়াকে কম্বল দেওয়া হলেও আর কোন সুবিধা পায়নি তারা। মাঝেমধ্যে লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাদেরকে চাউল দেন।
বুধবার (৪ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে রাণী হিজড়া, রেনু হিজড়া, শান্তা হিজড়া, ও কোহিনুর হিজড়াসহ কয়েকজন হিজড়া উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে। এসময় হিজড়াদের গুরুমা রাণী হিজড়া তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
রানী হিজড়া জানান, আমাদের থাকার জায়গা ও ঘর নেই। বিভিন্ন কলেনীতে ভাড়াটে থাকলেও মালিকের চোখরাঙ্গানী দেখতে হয়। আমরা লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের পুরকায়স্থ বাজারে একটি ভাড়াটে বাসায় ছিলাম। মালিক আমাদের বাসা ছাড়তে বলেছে। আমরা অন্য কেথাও বাসা পাচ্ছিনা।
তিনি বলেন, ‘আপনি আমাদের ‘হয় থাকার জন্য ঘর দেন, না হয় বিষের বোতল দেন।’
এসময় ইউএনও তাদেরকে আশ্বস্থ করে বলেন, আপনাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করা হবে।
পরে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হিজড়া না বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনদের প্রতি আমি আন্তরিক। হিজড়াদের সবধরনের সর্বোচ্চ সহযোগীতা করার চেষ্টা করবো।’
Design and developed by sylhetalltimenews.com