ঢাকা ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থেকে চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে যখন নানা বাধার মুখে পড়ছে, তখন চার দেশের জন্য এ সুযোগ তৈরি করল তেহরান।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ধরনের পরাজয়ের পরপরই এ সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে। ইরানের সঙ্গে ওই চার দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার ফলে দেশটি থেকে ওষুধ আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, চীনা জাহাজকে ছাড় দেওয়ার উদ্দেশ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।
মোগাদ্দামকে উদ্ধৃত করে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা বলেছে, ‘বর্তমানে আমরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে চারটি দেশকে ছাড় দিয়েছি। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার। এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং আমেরিকানরাও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।’
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরতা এবং এ অঞ্চলে বিস্তৃত বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে ইরানের এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছাড় দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, জাহাজগুলো বিনা খরচে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় জাহাজগুলোকে এখনো প্রণালি পারাপারের জন্য শুল্ক দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, তেহরানের এই ছাড় মূলত চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে, পারাপারের আর্থিক খরচ মওকুফের ক্ষেত্রে নয়।
তালিকায় চীনের অন্তর্ভুক্তি তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং দেশটির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগী। চীনা জাহাজ চলাচলের সুযোগ বজায় রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুরক্ষিত রাখতে চাইছে তেহরান।
অন্যদিকে, ইরানের কাছে কাতার ও ইরাকেরও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সচল রাখার ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর ইরানের দৃষ্টিতে ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সূত্র: এনডিটিভি
Design and developed by sylhetalltimenews.com