সিলেটে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী

প্রকাশিত: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫

সিলেটে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী

Manual3 Ad Code

এমরান ফয়ছল :: সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনের বেলায় যেমন, তেমনি রাতেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা বাড়ছে।

Manual6 Ad Code

নগরীর জিন্দাবাজার, কাজলশাহ, পাঠানটুলা, সুবিদবাজার, বন্দরবাজার, টিলাগড়, মানিকপীর, শ্যামলী, কুমারপাড়া, লামাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই মশার দৌরাত্ম্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার উৎপাতের কারণে সন্ধ্যার পর বাসাবাড়ি, দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, “ধূপ, কয়েল, স্প্রে- কোনো কিছুরই কার্যকারিতা টের পাওয়া যাচ্ছে না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, নগরীতে নিয়মিত ফগিং বা লার্ভিসাইড ছিটানো হচ্ছে না। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, খাল-নালার বর্জ্য জমে থাকা এবং ড্রেনের স্থবির পানি মশার প্রজনন বাড়িয়ে তুলেছে।
নগরীর একাধিক এলাকাবাসী বলেন, “অনেক সময় দিনের বেলায়ও মশা এত বেশি থাকে যে ঘরের দরজা-জানালাও খুলে রাখা যায় না। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, শীতের সময় সাধারণত মশার প্রবণতা কিছুটা কমে। কিন্তু সিলেটে অব্যাহত আবহাওয়া পরিবর্তন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এবার মশার প্রজনন বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও থেকেই যাচ্ছে।
সুমন আহমদ নামে একজন কর্মচারী জানান, মশার কমারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দিন-রাত কয়েল জ্বালিয়ে কাজ করতে হয়, না হলে মশার কামড়ে বসে কাজ করা সম্ভব হয়না। তিনি মশা নিধনে কার্যকরি প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান।
নগরবাসীর দাবি, শুধুমাত্র ফগিং নয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, খাল-নালা পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে মশার দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব নয়।

Manual7 Ad Code