‘জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে’

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

‘জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে’

Manual2 Ad Code

পাকিস্তানে বাংলাদেশের দ্বিগুণ মূল্যে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করতেই হবে।

শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সম্ভব’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম।

Manual3 Ad Code

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থার চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ছায় সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আমদানিকারক দেশ হিসেবে আমরা সংকটে পড়েছি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্বের নীতির সংশোধন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে আমাদের মাত্র ২ দিনের জ্বালানি মজুত ছিল। তখন কোনো আতঙ্ক তৈরি না হলেও এখন ৭ থেকে ১৫ দিনের মজুত থাকার পরেও প্যানিক সৃষ্টি হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রল-অকটেন কিনছে। অথচ দেশে বড় সংকট হওয়ার কথা ডিজেল নিয়ে। অতীতে সরকার জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে বর্তমানে জনগণ সরকারি তথ্য বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না।

Manual4 Ad Code

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ তামিম আরও বলেন, বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) বিগত সময়ে প্রতিবছর ৩ হাজার কোটি টাকার নিচে মুনাফা করেনি। সেই হিসাবে গত দশ বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রফিট করেছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিপিসি মুনাফার এই টাকা বিপদের জন্য না রেখে অন্য খাতে ব্যয় করেছে। সরকার সেই টাকা অন্য খাতে নিয়ে নিয়েছে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনে নেতৃত্বের ব্যর্থতা ছিল। সে ব্যর্থতার মাশুল এখন জনগণ ভোগ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারও জ্বালানি সক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কুইক রেন্টালের নামে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা করা জরুরি। আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি ছিল একপাক্ষিক। এতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি। আওয়ামী সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তিগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা উচিত।

Manual8 Ad Code

 

Manual5 Ad Code