‘চিৎকার না করলে সব লুটপাট করে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত’

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২৬

‘চিৎকার না করলে সব লুটপাট করে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত’

Manual7 Ad Code

ছোটপর্দার অভিনেত্রী ফারিন খান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে জামালপুরে একটি নাটকের শুটিংয়ে যাওয়ার পথে মাঝরাতে এ অভিনেত্রী লোমহর্ষক ওই ঘটনার মুখোমুখি হন।

ছোটপর্দার অভিনেত্রী ফারিন খান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে জামালপুরে একটি নাটকের শুটিংয়ে যাওয়ার পথে মাঝরাতে এ অভিনেত্রী লোমহর্ষক ওই ঘটনার মুখোমুখি হন।

Manual8 Ad Code

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারিন খান লেখেন, ‘১৩ তারিখ জামালপুর যাচ্ছিলাম। আনুমানিক রাত ৩টা ১৫ মিনিটে বাধ্য হয়েই একটা পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে যাই। যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমার কেন যেন মনে হলো পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।

পরক্ষণেই তাকিয়ে দেখলাম দুটো হাত ভেন্টিলেটর দিয়ে ঠিক আমার গলার কাছে। হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না দিলে আমাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত।’

Manual3 Ad Code

তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি খুব সাহসিকতার সঙ্গে চেঁচামেচি করে বেরিয়ে আসি এবং আমার ড্রাইভার আমার চিৎকার শুনেই এগিয়ে এসে লোকটাকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়।

Manual3 Ad Code

ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, লোকটা অনেকগুলো ডিমের খোসা নিয়ে ওয়াশরুমের পেছনে যাচ্ছিল। আপনি ওয়াশরুমে ঢোকার পরেই আমি ভাবছিলাম হয়তো ময়লা ফেলতে যাচ্ছে, তাই কিছু বলিনি। আপনার চিৎকার শুনে বের হয়েছি।’

Manual2 Ad Code

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘ওপরে ওপরে সাহস দেখালেও আমি জানি ভেতরে ভেতরে কতটা ভয় আমি পেয়েছিলাম। পরের দিন সকালে শুটিং ইউনিটের অনেককেই ব্যাপারটা শেয়ারও করেছিলাম। এর থেকে বিশ্রী অভিজ্ঞতা আর কিছু হতে পারে না। বিষয়টা ভেবেছিলাম কাউকে বলে আর কী হবে, হয়তো আল্লাহ আমাকে সেদিন রক্ষা করেছেন। কিন্তু মানসিকভাবে আমি যে কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি, কতটা খারাপ লাগা কাজ করেছে এবং কী পরিমাণ চাপা যন্ত্রণা অনুভব করেছি, সেটা শুধুমাত্র আমি জানি।’

স্ট্যাটাসের শেষাংশে মেয়েরা এদেশে নিরাপদ নয় উল্লেখ করে ফারিন লেখেন, ‘আমরা যেসব মেয়েরা বাইরে কাজ করি, আমরা জানি কত কত এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। তবে এই দেশে সত্যিই মেয়েরা নিরাপদ না। যে দেশে আমাকে আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয়, সে দেশে আসলে ধর্ষণের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ যার বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমন কোনো বিচার কখনো হয়নি, যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে।’