জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও ছাড় দিব না : সিলেটে ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৫

জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও ছাড় দিব না : সিলেটে ডা. শফিকুর রহমান

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম, রং বা জাতের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ হবে না। যেখানে লুটতরাজ, দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি ও নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠনকারী থাকবে না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

শফিক আরও বলেন, দেশের কয়েকটি সক্রিয় ইসলামিক দল এবং দেশপ্রেমিক দলগুলো ইতিমধ্যে জামায়াতকে সহযোগিতা করছে এবং আরো অনেক দল তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করছেন।

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সবাইকে নিয়ে দেশ গঠনের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সবাইকে নিয়েই সামনে আগাবো। আমাদের বন্ধু সংগঠন বলেছে তারা নির্বাচিত হলে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া সবাইকে নিয়ে দেশ গঠন করবেন। আল্লাহ যদি তার মেহেরবানি ও জনগণের ভালোবাসায় আমাদেরকে নির্বাচিত করেন, আমরা তাদেরকেও সাথে নিয়ে দেশ গঠন করবো।

তিনি বলেন, যদি আমাদের বিরোধী দলে বসতে হয়, আমরা ভালো কাজে কর্মীর মতো সঙ্গী হবো। যদি তারা পুরোনো কায়দায় (আওয়ামী লীগের মতো) লিপ্ত হয়, তাহলে আগেও যেমন জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও ছাড় দিব না।

শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে অধিক সংখ্যক আসন পেলেও জামায়াতের এমপিরা সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবে না। আমাদের জীবন এখন যেমন আছে তখনও তেমন থাকবে। এজন্য আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়িও চড়বো না।

Manual8 Ad Code

ভুল করলে শক্ত সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ, তাদের উপর ট্যাক্স বসানোর জন্য আমাদের ভোট দিবে না, বরঞ্চ জনগণের হকের পাহারাদারির জন্য ভোট দিবে। সেই পাহারাদারি করতে পারলেই আমাদের রাজনীতি স্বার্থক, না হলে আমরা ব্যর্থ। আমরা ব্যর্থ হতে চাই না। আমরা ভুল করলে শক্ত সমালোচনা চাই।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ, সাংবিধানিক তিন স্তম্ভের মেরুদণ্ড সোজা রাখে এই স্তম্ভ। আমরা অনুরোধ করবো, সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো বলুন। সেই কালো আমি হলেও আমাকে ছাড় দিবেন না।

Manual2 Ad Code

প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, প্রবাসীদের ভোটদানে পদ্ধতিগত কিছু বাধা রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে (বুধবার) ডেলিগেশন পাঠিয়ে বাধা দূর করতে সুপারিশমালা পেশ করেছি, তারা আশ্বস্ত করেছেন তারা চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, প্রবাসে ১৪ দিন ছিলাম, প্রবাসীদের বলেছি যে আপনাদের ভোটের অধিকার ছিল না, তার জন্য আমরাই লড়াই করেছি। অনেক দল তার বিরোধিতা করেছে, বলেছেন যে প্রবাসীরা শুধু ফরেন কারেন্সি দিবে, তাদের ভোটের কী দরকার। আমরা বলেছি অবশ্যই তাদেরকে ভোটের অধিকার দিতে হবে, কিছু নিতে হলে ন্যায্যটা দিতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথমেই হয়তো শতভাগ ভোটার রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে না। কিন্তু যতজন আসবে সেটাও অনেক। আগামীতে দেশ গড়ার সকল কাজে প্রবাসীরা যে অনুপাতে বিদেশে আছেন, সেই অনুপাতে সকল জায়গায় তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এটাই ন্যায়বিচার।

৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা চলে গিয়েছেন তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বারবার বলতেন কোনো কারণে যদি আওয়ামী লীগের পতন হয় তাহলে তাদের পাঁচ লাখ মানুষ নিহত খুন হবে। আমরা যদি তাদের মতো চিন্তা করতাম তাহলে দেশ বধ্যভূমিতে পরিণত হতো। কিন্তু আমরা সবাইকে প্রতিশোধ না নিতে অনুরোধ করলাম।

Manual2 Ad Code

তিনি আরেও বলেন, আওয়ামী লীগ দায়িত্বজ্ঞানহীন হলেও এই জাতি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এই দুইদিনের ভিতরে পাঁচজনও খুন হয়নি। তবে, সেই সময় ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় কিছু মানুষ খুন হয়েছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা সারাদেশে মসজিদ-মন্দির-চার্চ-মঠ ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিয়েছেন। এই দায়িত্বে অন্যান্য দলও একই ডাক দিয়েছেন, সবাই মিলেমিশে কাজ করেছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও সিলেট-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।

Manual1 Ad Code

সমাবেশে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতহাকর্মী ছাড়াও বন্ধুপ্রতিম ও সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।