বিশ্বকাপ ছেড়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন মেসি

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬

বিশ্বকাপ ছেড়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন মেসি

Manual4 Ad Code

গেল বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ছিলেন সেরাদের একজন। ৩৯ বছর বয়সে তিনি করেছেন আট গোল। খেলেছেন দুর্দান্ত কিছু ম্যাচ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়—সবকিছুতেই তিনি ছিলেন উজ্জ্বল।

Manual6 Ad Code

তবে এত কিছুর পরেও তার মন মোটেও শান্ত ছিল না। কারণ তার বাবা হোর্হে মেসি তখন গুরুতর অসুস্থ। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলাকালীন পুরোটা সময় মেসি এই দুশ্চিন্তা নিয়েই দিন কাটিয়েছেন।

পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে একটা সময় বিশ্বকাপ ছেড়ে দেশে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। দিয়ারিও ওলের বরাত দিয়ে বিষয়টি জানান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো।

Manual4 Ad Code

বিশ্বকাপ মেসির জন্য ছিল একইসঙ্গে আনন্দ ও উদ্বেগের সময়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর তিনি প্রায় নিজের অজান্তেই পরিবারের এই কঠিন পরিস্থিতির কথা প্রকাশ করে ফেলেছিলেন। সেই সময় তার চোখে ছিল কান্না, মনে ছিল গভীর অনুভূতি।

Manual6 Ad Code

আগের প্রতিটি বড় মঞ্চে বাবা হোর্হে মেসির উপস্থিতি ছিল একেবারে নিয়মিত বিষয়। এবার হোর্হে তার পাশে থাকতে পারেননি। মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা, সন্তানরা এবং শ্বশুর গ্যালারিতে ছিলেন। কিন্তু ছিলেন না মা সেলিয়া কিংবা বাবা হোর্হে।

কোচ স্কালোনির অধীনে দলের ক্যাম্পে থেকেও মেসি এই কঠিন সময় সামলে নিয়েছিলেন। নিজের স্বভাব অনুযায়ী তিনি এই কষ্ট নিজের মধ্যেই রেখেছিলেন। তবে তার সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফরা প্রতি মুহূর্তে খোঁজ রাখতেন তার বাবার শারীরিক অবস্থার।

কিছু সময় এমনও এসেছিল, যখন তাকে ব্যক্তিগত বিমানে রোজারিওতে গিয়ে বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার দলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের সঙ্গেই থেকে যান।

এবারের বিশ্বকাপে মেসি অসাধারণ কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা হোর্হের অসুস্থতার সঙ্গে তাকে লড়তে হয়েছে। রোজারিওতে হোর্হে তখন প্যালিয়েটিভ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এত আবেগ আর দুশ্চিন্তার মধ্যেই মেসি পার করেছেন তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। মাঠে দিয়েছেন সবকিছু, আর মনে মনে ভেবেছেন বাবার স্বাস্থ্যের কথা। এতসব লড়াই যেন তার ২০২৬ বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে।

 

Manual1 Ad Code