শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০০

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০০

Manual8 Ad Code

এক দশকে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট বন্যায় রাজধানী কলোম্বসহ দেশটির বহু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।  ভয়াবহ এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০০ এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরও দীর্ঘ হবে। কারণ এখনও আরও দুই শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

Manual2 Ad Code

আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় এবারের বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৩ জন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, রাজধানী কলম্বোর বেশ কিছু অংশে পানি বেড়েই চলেছে। এখনও নিখোঁজ আছেন ২২০ জন। রোববার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে নৌবাহিনীর পাঁচ সদস্যও রয়েছেন। ডিএমসি জানিয়েছে, চরম আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ রাষ্ট্রীয় সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।

Manual3 Ad Code

আল জাজিরার প্রতিনিধি মিনেল ফার্নান্ডো জানান, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। তিনি বলেন, কিছু মহল্লা পুরোপুরিই কাদা-পানিতে চাপা পড়েছে। আর প্রতিটি ঘটনা নতুন হতাশা নিয়ে আসছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বেশ কয়েকটি এলাকা এখনো হালনাগাদ তথ্য দিতে পারেনি। অবিরাম বৃষ্টিতে নতুন করে রোপণ করা ধানক্ষেতও ডুবে গেছে বলে জানান তিনি।

ডিএমসি জানায়, কলম্বোর উত্তরাংশেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কারণ কেলানি নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এক কর্মকর্তা বলেন, ঘূর্ণিঝড় সরে গেলেও উজানে ভারী বর্ষণে নদীর তীরবর্তী নিচু অঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে শনিবার জরুরি অবস্থা জারি করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান। সাড়া দিয়ে প্রথমেই ভারত ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধার অভিযানের জন্য দুটি হেলিকপ্টার পাঠায়। জাপান জরুরি সহায়তার প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য একটি দল পাঠানোর ঘোষণা দেয়। যদিও অনেক এলাকায় বৃষ্টি কমেছে, কিন্তু মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বহু সড়ক এখনো অগম্য অবস্থায় রয়েছে।
ডিএমসি-এর হালনাগাদ তথ্য বলছে, ঘূর্ণিঝড়-বন্যায় ২০ হাজারের বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ। বিভিন্নভাবে সহায়তার প্রয়োজনীয় তালিকায় রয়েছেন ৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মিলে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুতের লাইন ধসে পড়া এবং পানি শোধনাগার প্লাবিত হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

Manual3 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ