দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওষুধের সংকট

প্রকাশিত: ১২:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২৫

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওষুধের সংকট

Manual3 Ad Code

এমরান ফয়ছল :

গ্রামীণ জনপদে উন্নত সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দক্ষিণ সুরমার বেশির ভাগ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

Manual7 Ad Code

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সংকট দিন দিন বেড়েই চলছে। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা সরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে কিনতে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।যাদের অনেকের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য তৈরি করছে বড় ঝুঁকি। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন , ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদারকির অভাবই এই সংকটের মূল কারণ।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলেন-ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছেন, কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ফার্মেসিতে দু একটি ছাড়া বেশিরভাগ ওষুধ পাওয়া যায়না । বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয় আমাদের । আমাদের মতো গরীব ও দিনমজুরদের পক্ষে এই খরচ বহন করা সত্যিই কষ্টদায়ক। রিকশা চালক মালিক বলেন সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করি, তার অর্ধেক চলে যায় শুধু ওষুধ কিনতেই। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যদি ওষুধ না পাওয়া যায়, তাহলে গরিব মানুষের চিকিৎসা হবে কোথায়?

Manual1 Ad Code

চিকিৎসা নিতে আসা মরিয়ম বেগম বলেন, অসুস্থ হলে আমাদের ভরসা একমাত্র উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স । চিকিৎসা ঠিকভাবে দেওয়া হয়, কিন্তু সমস্যা হয় ওষুধের ক্ষেত্রে। ডাক্তার আমাদের ওষুধ লিখে দেন কয়েক ধরনের , এর মধ্যে মাত্র দুইটি একটি ফার্মেসি থেকে পেয়েছি, বাকি গুলো বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে । আমাদের মতো কম আয়ের মানুষের পক্ষে এই খরচ বহন করা খুব কঠিন।

রোগীরা অভিযোগ করে বলেন— সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার দেখা মিলছে না। অনেক সময় প্রেসক্রিপশনে দেওয়া একটিও ওষুধ ফার্মেসিতে মজুত থাকে না, ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয় উচ্চমূল্যে।এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন- চিকিৎসার জন্য আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি । চিকিৎসা ঠিকভাবে দেওয়া হলেও প্রেসক্রিপশনে দেওয়া সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়েছে। সরকারি সাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে যদি নিজের টাকায় সব ওষুধ কিনতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ উপকার পাবে কীভাবে?

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সালাউদ্দিন মিয়া বলেন-প্রতি মাসে আমরা হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের চাহিদা পাই , কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পাই  সীমিত। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও প্রেসার নিয়ন্ত্রণের ওষুধে ঘাটতি প্রায়ই দেখা যায়। এটি মূলত বাজেট ও কেন্দ্রীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বরাদ্দ যে অনুপাতে বাড়ার কথা, সে হারে বাড়ছে না— অথচ রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থায় অনেক সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না, যা আমাদের জন্যও বিব্রতকর ও উদ্বেগের বিষয়।
পাশাপাশি আমরা ওষুধের গুণগতমান ও সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছি। জনগণের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

Manual7 Ad Code

প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন, যা আসলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই নির্বাচিত সরকার আসলে নতুন বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং সরবরাহ আরও সহজ ও নিয়মিত হবে। পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো হবে , যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের ঘাটতি না থাকে এবং রোগীরা আরও উন্নত সেবা পান।এবিষয়ে আরও জানতে চাইলে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ইউ এন ও ঊর্মি রায়ের সাথে মোটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ধরেননি।