ঢাকা ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫
কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর প্রাণে বেঁচে যাওয়া ২৫ নাবিকের মধ্যে বাংলাদেশের চারজন ছিলেন। তবে হামলার দুই দিন পর ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি তীরের কাছে আনতে গিয়ে এখন নতুন বিপদের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি নাবিক মাহফুজুল ইসলামসহ মোট ১০ নাবিক।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) হোয়াটসঅ্যাপে মাহফুজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ড্রোন হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এরপর তুরস্কের উপকূল ছেড়ে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে ভেসে জাহাজটি পৌঁছে গেছে বুলগেরিয়ার জলসীমায়। কিন্তু তাদের উদ্ধারে এখনো কেউ এগিয়ে আসেনি, ফলে ক্রুরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
গত ২৮ নভেম্বর তুরস্কের উপকূলে কৃষ্ণসাগর অতিক্রমের সময় জ্বালানি তেলবাহী এই জাহাজটিতে হামলা চালায় ইউক্রেনের নৌবাহিনী। রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহরের’ অংশ হিসেবে পরিচিত জাহাজটিতে তখন ২৫ নাবিক ছিলেন, যাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। পরে তুরস্কের কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে।
এই চার বাংলাদেশির তিনজন- কুষ্টিয়ার আল আমিন, ঢাকার ধামরাইয়ের হাবিবুর রহমান এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজগর হোসাইন- ইতোমধ্যে দেশে ফেরার পথে রয়েছেন। তবে জাহাজটি তীরে নিরাপদে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ১০ নাবিককে, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের মাহফুজুল ইসলাম, চীনের সাতজন, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের একজন করে নাবিক।
মাহফুজুল ইসলাম জানান, তুরস্কের কোস্টগার্ডের সহায়তায় এক দিনে ৩০ নটিক্যাল মাইল টেনে জাহাজটি উপকূলের কাছে আনা হলেও নোঙর করা সম্ভব হয়নি। ইঞ্জিন অচল থাকায় কোনো সনাতন পদ্ধতিতেও জাহাজটি স্থির রাখা যায়নি। ফলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজটি ভেসে গিয়ে ঢুকে পড়ে বুলগেরিয়ার জলসীমায়।
তিনি বলেন, ‘বুলগেরিয়ার কোস্টগার্ডকে জানালেও কোনো সাড়া পাইনি। প্রচণ্ড ঠান্ডা, খাবারও নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের জীবন এখন ঝুঁকিতে।’
এদিকে নাবিকদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জানান, বুলগেরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অচল জাহাজে অবস্থান নাবিকদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
Design and developed by sylhetalltimenews.com