সিলেট–৫ ভোটের সমীকরণ

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

সিলেট–৫ ভোটের সমীকরণ

Manual6 Ad Code

সিলেট–৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় পর্যায়ে প্রচার আছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে জোট হলে কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে আসনটি ছাড়তে পারে বিএনপি। এই সম্ভাবনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে স্থানীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে। তাঁরা প্রকাশ্য সভা-সমাবেশে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দাবি তুলছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এ আসনে ইসলামপন্থী দলগুলো বিভক্ত এবং ‘ভোটব্যাংক’ নামে উল্লেখযোগ্য কোনো শক্তি নেই। তৃণমূলে ধানের শীষের ভোটই সবচেয়ে বেশি। আগের নির্বাচনগুলোতে জোট রাজনীতির কারণে ইসলামপন্থী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের।

স্বাধীনতার পর এ আসন থেকে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার জাতীয় পার্টি, দুবার স্বতন্ত্র এবং বিএনপি–জামায়াত–ইসলামী ঐক্যজোট একবার করে বিজয়ী হয়েছে।

Manual5 Ad Code

সর্বশেষ নির্বাচনে আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয় পান। ফুলতলী হুজুরের অনুসারীদের প্রভাব, আনজুমানে আল ইসলাহর সংগঠিত শক্তি- সব মিলিয়ে আসনটি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।

Manual8 Ad Code

এদিকে বিএনপি ২০০১ সাল থেকে জোট রাজনীতির অংশ হিসেবে এ আসনে ইসলামপন্থী দলের প্রার্থী দিয়ে থাকে। ২০০১ ও ২০০৮ সালে জামায়াত নেতা ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী হন এবং ২০০১ সালে বিজয়ী হন। একাদশ নির্বাচনে জমিয়তের উবায়দুল্লাহ ফারুককে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ‘জোট হবে কি না, কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে। জোট হলে কে কোথায় প্রার্থী হবেন, সেটাও তখন নিশ্চিত হবে।’

এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আছেন- মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন), সিদ্দিকুর রহমান (পাপলু), আশিক উদ্দিন চৌধুরী, মাহবুবুল হক চৌধুরী, মো. জাকির হোসাইন, ফাহিম আলম ইসহাক চৌধুরী, শরীফ আহমদ লস্কর প্রমুখ।

Manual3 Ad Code

এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর নামও আলোচনায় আছে।

মামুনুর রশিদ বলেন, “এখানে ধানের শীষের ভোটই বেশি। জোটভুক্ত হয়ে ‘অজনপ্রিয়’ প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া এবার মানবেন না স্থানীয় নেতাকর্মীরা।”

Manual1 Ad Code

তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন মাঠে থাকার কারণে দল তাঁকে প্রার্থী করতে পারে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে তৃণমূলের দাবি-এবার দলের নিজস্ব প্রার্থী।’

অন্যদিকে ইসলামপন্থী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন- ইসলামী আন্দোলনের রেজাউল করিম আবরার, খেলাফত মজলিসের রেজাউল করিম জালালী, ইসলামী ঐক্যজোটের ফয়জুল হক জালালাবাদীসহ আরও অনেকে। তবে জাতীয় পার্টি এখনো মাঠে সক্রিয় নয়।

সব মিলিয়ে সিলেট–৫ আসনকে ঘিরে জোট-সমীকরণ, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দাবিদাওয়া এবং তৃণমূলের চাপ- পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ অবস্থায় বিএনপি শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী দেবে, নাকি জোটের চাপে আসন ছাড়বে- এ নিয়েই স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ