পাকিস্তানে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর দাবি

প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২৫

Manual3 Ad Code

পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ এক সম্মেলনে বিরোধীরা দাবি তুলেছে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের। রোববার অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে বিরোধী জোট অবিলম্বে একজন স্বাধীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিয়োগেরও দাবি জানায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এতে বলা হয়, তেহরিক তাহাফ্ফুজ আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি) আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলন শেষে গৃহীত ঘোষণায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু তুলে ধরা হয়। ঘোষণায় ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ার নির্বাচনকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রকাশ্য’ কারচুপি হিসেবে আখ্যা দিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয় এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

Manual4 Ad Code

ঘোষণায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়। বিশেষ করে বিচারপতি মনসুর আলী শাহ, বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ, বিচারপতি শামস মাহমুদ মির্জা এবং বিচারপতি তারিক জাহাঙ্গীরিসহ বিবেকবান বিচারকদের ‘অপসারণ ও জোরপূর্বক বদলি’র কথা উল্লেখ করে এসব পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা জানানো হয়। বিরোধীরা জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ফোর্থ শিডিউলে তালিকাভুক্ত করার ঘটনাও নিন্দা করে এসব ব্যবস্থাকে অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করে।গণতন্ত্রে স্বচ্ছ নির্বাচনের মৌলিক ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে ঘোষণায় বলা হয়, নতুন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পর সম্পর্কিত এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্য উভয়ই অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়। সম্মেলন থেকে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

Manual4 Ad Code

বিরোধী জোট বিচারপতি তারিক জাহাঙ্গীরির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের নিন্দা জানায় এবং ১৯৭৩ সালের মূল সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগ পুনর্বহালের দাবি তোলে। ঘোষণায় পিটিআই প্রধান ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে কথিত মিথ্যা মামলায় দেয়া সাজা এবং ইমরান খানের বোনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, চুল ধরে টানাহেঁচড়া ও কথিত রাসায়নিক জলকামান ব্যবহারের ঘটনার কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়। জোটটি ইমরান খান, বুশরা বিবি, শাহ মেহমুদ কুরেশি, ইজাজ চৌধুরী, ইয়াসমিন রশিদ, সরফরাজ চিমা, মিয়াঁ মাহমুদুর রশিদ, সাহিবজাদা হামিদ রেজা, আলী ওয়াজির, হাজি আবদুল সামাদ এবং ওয়ালি মোহাম্মদসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করে।

Manual3 Ad Code

বিরোধী জোট জনসমর্থন জোরদার ও সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কমিটিতে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাফা নওয়াজ খোখার, ডা. আমজাদ, আলী আসগর, হালিম আদিল শেখ ও জাইন শাহ। তারা প্রাদেশিক ও জেলা পর্যায়ে উপকমিটি গঠনের তত্ত্বাবধান করবেন। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে জোটপ্রধান মাহমুদ খান আছাকজাই বলেন, বিরোধীরা সংলাপের জন্য উন্মুক্ত। তবে ক্ষমতাসীনদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ