তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধানের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধানের মৃত্যু

Manual5 Ad Code

তুরস্কে এক বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে রওনা দেয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ওই জেটে আরও চারজন আরোহী ছিলেন। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবাইবাহ এক বিবৃতিতে বলেন, তুরস্কের আঙ্কারা শহর থেকে একটি সরকারি সফর শেষে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এই গভীর ক্ষতি জাতির জন্য, সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং সমগ্র জনগণের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

Manual7 Ad Code

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ওই বিমানে লিবিয়ার স্থলবাহিনীর কমান্ডার, সামরিক শিল্প কর্তৃপক্ষের পরিচালক, চিফ অব স্টাফের একজন উপদেষ্টা এবং তার দপ্তরের একজন আলোকচিত্রীও ছিলেন। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বিমানটি গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। তবে বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে বিমানের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আঙ্কারার হায়মানা জেলার কেসিক্কাভাক গ্রামের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, দাসো ফ্যালকন ৫০ ধরনের ওই জেটটি হায়মানার আকাশসীমায় থাকার সময় জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আল-হাদ্দাদের সফরের কথা জানিয়ে বলেছিল, তিনি তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের, তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেলচুক বাইরাকতারওগ্লু এবং অন্যান্য তুর্কি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে লিবিয়ার ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ২০২০ সালে তুরস্ক সেখানে সরকারকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে সামরিক সদস্য পাঠায় এবং পরে একটি সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ চুক্তি করে, যা মিশর ও গ্রিস বিরোধিতা করেছে। ২০২২ সালে আঙ্কারা ও ত্রিপোলি জ্বালানি অনুসন্ধান সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক চুক্তিও স্বাক্ষর করে। এর বিরুদ্ধেও মিশর ও গ্রিস আপত্তি জানায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ওয়ান লিবিয়া’ নীতির আওতায় তুরস্ক তার অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এনে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ