ঢাকা ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
সিলেট ও সুনামগঞ্জের একাধিক আসনে বিএনপি ‘বিকল্প প্রার্থী’ হিসেবে একাধিক নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়, নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কিছু আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্য থেকে পরবর্তীতে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
সিলেট-৬ আসন, যা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত, সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রোববার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মিডিয়া সেল মনোনয়নপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে একই আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফয়সল আহমদ চৌধুরী এর আগেও সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চলমান নির্বাচনী প্রস্তুতিতেও তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও এমরান আহমদ চৌধুরী—উভয়েই রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জি কে গউস বলেন, কয়েকটি আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের সময় একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে এবং অন্যজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।
একইভাবে সুনামগঞ্জের দুইটি আসনেও পূর্বে মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুন করে আরও দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রোববার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত চিঠির বরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানান কামরুজ্জামান ও তাহির রায়হান চৌধুরী।
এ বিষয়ে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউস বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা আমাকে জানিয়েছেন। তবে দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে একাধিক আসনে একাধিক প্রার্থী রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার আগে একজনকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়নপ্রাপ্ত কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, দলের পক্ষ থেকে তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে এবং তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে আগের প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি জানেন না।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়নপ্রাপ্ত তাহির রায়হান চৌধুরী বলেন, তিনি মনোনয়নপত্র পেয়েছেন। আগের প্রার্থীর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা পরবর্তীতে জানা যাবে। দলের মূল্যায়নে মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে নতুন করে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে এবং নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই বিএনপি এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
Design and developed by sylhetalltimenews.com