লড়াকু এক যোদ্ধার চিরবিদায়

প্রকাশিত: ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

লড়াকু এক যোদ্ধার চিরবিদায়

Manual3 Ad Code

না ফেরার দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের আশার বাতিঘর বেগম খালেদা জিয়া। থেমে গেল দীর্ঘ ৪৩ বছরের আপসহীন, সংগ্রামী, লড়াকু এক রাজনৈতিক জীবন। জাতি হারালো রাজনীতির এক নির্ভরযোগ্য অভিভাবক। মানুষ আর গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে বেগম খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছিলেন গণমানুষের এক বিশ্বস্ত ঠিকানা। হয়ে উঠেছিলেন গণমুখী রাজনীতির উজ্জ্বল এক নক্ষত্র, গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষায় এক লড়াকু সৈনিক। লাজুক গৃহবধূ থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রশ্নে জীবনে একদিনের জন্যও আপস করেননি। ফ্যাসিবাদ, স্বৈরশাসনের সামনে এক মুহূর্তের জন্য হার মানেননি। প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সামনের সারির লড়াকু এক যোদ্ধা। নির্বাচনী লড়াইয়ে যার কোনো পরাজয় নেই। প্রতিপক্ষের হিংসা, নির্যাতন, রাজনৈতিক আঘাতের জবাব তিনি দিয়েছেন শালীন ও রাজনীতির ভাষায়। হিংসার জবাব দিয়েছেন শান্তির বলিষ্ঠ বার্তায়।

Manual8 Ad Code

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন দেশের নারী সমাজের। নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের রোলমডেল এক সরকার প্রধান। ৩০শে ডিসেম্বর শীতের কনকনে ভোরে দেশবাসীকে কাঁদিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তের পথে। তার এই মহা প্রয়াণে দেশ হারিয়েছে এক মহীয়সী নক্ষত্র, যার আলোয় আলোকিত ছিল গণতন্ত্রকামী এক প্রজন্ম। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দেশি-বিদেশি চিকিৎসক-কর্মীদের ৩৭ দিনের টানা চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বেগম খালেদা জিয়ার অন্তিম মুহূর্তে তার বড় ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার আরেক পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমানসহ স্বজনরা এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনেও একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো।

Manual5 Ad Code

এরআগে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার আনুষ্ঠানিকভাবে খালেদা জিয়া ভোর ৬টায় আইসিইউতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানান। ব্রিফিংয়ের সময়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ১ দিনের সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি এই সিদ্ধান্ত জানাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে দুপুরে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠকে বসে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে।কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন করা যাবে না। দাফনের কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে হবে বলে সেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

অন্যদিকে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কার্যালয়ে সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব। পুরো জানাজা কার্যক্রমের সঞ্চালনা করবেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সবাই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করবেন। তার দাফনে অংশ নেবেন।

Manual8 Ad Code