মালয়েশিয়ায় ২৭ বাংলাদেশিসহ ১৬৩ অভিবাসী আটক

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

মালয়েশিয়ায় ২৭ বাংলাদেশিসহ ১৬৩ অভিবাসী আটক

Manual3 Ad Code

মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে ২৭ বাংলাদেশিসহ মোট ১৬৩ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। কুয়ালালামপুরের পান্তাই ডালাম ও বুকিত বিনতাং এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Manual8 Ad Code

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, কুয়ালালামপুরের পান্তাই ডালামের একটি আবাসিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণ নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে ১৩৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়।

কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ জানান, জনসাধারণের অভিযোগ ও টানা দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে প্রায় ২০০ জনকে যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৩৩ জনের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১০২ জন পুরুষ ও ৩২ জন নারী রয়েছেন।

জাতীয়তা অনুযায়ী আটকরা হলেন, ৬০ জন ইন্দোনেশীয়, ৩১ জন মিয়ানমারের, ২৭ জন বাংলাদেশি, ১২ জন পাকিস্তানি, ৯ জন নেপালি, ১ জন ভারতীয়।

ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি জানান, আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য ইমিগ্রেশন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১) (সি) ( বৈধ পাস বা পারমিট ছাড়া অবস্থান) অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় জনস্বার্থ রক্ষা ও আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে, তামান বুকিত আংকাসার ব্লক ২১-এর বাসিন্দা সমিতির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সুহাইলি তাম্বি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বিদেশিদের অবাধ চলাফেরার কারণে ওই ব্লকের পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।’ সন্ধ্যার পর সাধারণ স্থান ও বারান্দায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাসিন্দারা অস্বস্তিতে পড়েন বলেও তিনি জানান। তার ভাষায়, মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা, অশালীন আচরণ, ভাঙচুর, লিফটে ক্ষতিসাধন ও অস্বাস্থ্যকর কর্মকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর বুকিত বিনতাং এলাকায় তিনটি ম্যাসাজ পার্লারে পরিচালিত অভিযানে জেআইএম ৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে। সোমবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে আটকরা হলেন- ১১ জন ইন্দোনেশীয়, ১৬ জন কম্বোডীয়, ২ জন থাই এবং ১ জন চীনা নাগরিক।

ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি জানান, আটক সবাইকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের জন্য জেআইএম কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual5 Ad Code

অভিযানে অংশ নেওয়া হারিয়ান মেট্রো জানায়, সংশ্লিষ্ট ম্যাসাজ পার্লারগুলোর অধিকাংশ কর্মী ইন্দোনেশীয় নাগরিক; তাদের অনেকেরই বৈধ পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতিপত্র নেই, যদিও তারা কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।

আটক কর্মীদের একজন, ৩৫ বছর বয়সী লিনা (ছদ্মনাম), ইন্দোনেশিয়ার মেদান থেকে আসা। তিনি জানান, গত বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ায় এসে ওই পার্লারে কাজ শুরু করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পার্লারটি প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং ৪০ মিনিটের ম্যাসাজ সেবার মূল্য সর্বনিম্ন আরএম৬০।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের দেওয়া টাকার ৫০ শতাংশ আমি পারিশ্রমিক হিসেবে পাই। আজ রাতে মাত্র দুইজন গ্রাহক পেয়েছি।’

Manual6 Ad Code

তিনি আরও দাবি করেন, তার পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতিপত্র মালিকের কাছে রাখা আছে।

অভিযানের সময় একটি ম্যাসাজ সেন্টারে একজন সরকারি কর্মচারীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান, তিনি ইপোহ, পেরাক থেকে কুয়ালালামপুরে গলফ খেলতে এসে বুকিত বিনতাংয়ের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তার ভাষায়, খাবারের পর বিশ্রাম ও ম্যাসাজের জন্য পার্লারে ঢোকার পরই অভিযান শুরু হয়। তিনি আগাম হিসেবে আরএম৬০ পরিশোধ করেছিলেন বলেও জানান।

জেআইএম জানিয়েছে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ও ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।