পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নিচ্ছেন জোহরান মামদানি

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৬

পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নিচ্ছেন জোহরান মামদানি

Manual4 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনীতির উদীয়মান তরুণ মুখ জোহরান মামদানি বুধবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের। তিনি এমন সময়ে এই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এএফপি বলছে, ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার ঠিক মধ্যরাতে, একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে তিনি শপথ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম নগরী নিউ ইয়র্কের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন। নিউইয়র্কের ইতিহাসে তিনিই হচ্ছেন প্রথম মুসলিম মেয়র।

Manual2 Ad Code

তার কার্যালয় জানিয়েছে, সাধারণ পরিবেশে এই শপথগ্রহণের স্থান তার শ্রমজীবী মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। কারণ ৩৪ বছর বয়সী এ ডেমোক্রেট তার নির্বাচনী প্রচারণায় জীবিকা ব্যয়ের লাগামছাড়া বৃদ্ধি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে মাত্র এক বছর আগেও প্রায় অচেনা এই নেতার উচ্চাকাক্সক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এর মধ্যে আছে ভাড়া স্থগিত করা, সর্বজনীন শিশুযত্ন সুবিধা এবং বিনামূল্যের গণপরিবহন বাস। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির লেকচারার জন কেইন বলেন, নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকের গুরুত্ব সীমাবদ্ধ হয়। ভোটারদের কাছে তখন ফলাফলের গুরুত্ব অনেক বেশি হয়ে ওঠে। এখানে ট্রাম্পের ভূমিকা হতে পারে নির্ধারক। এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট নিজেও নিউইয়র্কের নির্বাচিত মেয়র মামদানিকে বারবার সমালোচনা করেছেন। তবে গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে তাদের মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়।কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক লিংকন মিচেল বলেন, সেই বৈঠক ‘মামদানির দৃষ্টিকোণ থেকে যতটা ভালো হতে পারত, ঠিক ততটাই ভালো হয়েছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্পর্ক দ্রুতই উত্তেজনাপূর্ণ রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য উত্তেজনার একটি ক্ষেত্র হলো অভিবাসন বিরোধী অভিযান। কারণ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান জোরদার করছেন। অন্যদিকে মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিবাসী সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেয়ার। নভেম্বরে ভোটের আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, নিউইয়র্ক যদি মামদানিকে নির্বাচিত করে, তবে তিনি নগরীর ফেডারেল তহবিল কমিয়ে দেবেন এবং মামদানিকে বলেছেন ‘উন্মাদ কমিউনিস্ট।’ অন্যদিকে নির্বাচিত মেয়র মামদানি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে একজন ফ্যাসিস্ট মনে করেন।

মধ্যরাতে যে ব্যক্তিগত শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার চার বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে, তা পরিচালনা করছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিজিয়া জেমস। তিনি ট্রাম্পকে জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করতে সফল হয়েছিলেন। বৃহত্তরভাবে আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠান হবে বৃহস্পতিবার। সেখানে বক্তব্য দেবেন তার বামপন্থী সহযোগীরা, যেমন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। সিটি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকার কথা।

Manual5 Ad Code

মামদানির টিম একটি ‘ব্লক পার্টি’রও আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী ব্রডওয়ে বরাবর রাস্তার পাশে স্থাপিত স্ক্রিনে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন। নতুন দায়িত্বের সঙ্গে বদলাচ্ছে তার ঠিকানাও। কুইন্সের ভাড়া অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে তিনি চলে যাচ্ছেন ম্যানহাটানের বিলাসবহুল মেয়র বাসভবনে।

Manual1 Ad Code

অনেকে ভেবেছিলেন সামর্থ্য ও ব্যয় সংকট নিয়ে প্রচারণা চালানো মামদানি হয়তো সরকারি বাসভবনে থাকবেন না। তবে তিনি জানিয়েছেন, মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণেই সেখানে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্ম নেয়া মামদানি সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে যান। তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবেশে বেড়ে ওঠার পর তিনি অল্প সময়ের জন্য রাজনীতিতে যুক্ত হন। প্রথমে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য, পরে নির্বাচিত হন মেয়র।

অভিজ্ঞতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তিনি নিজেকে ঘিরে গড়ে তুলছেন অভিজ্ঞ উপদেষ্টা টিম। তারা পূর্ববর্তী মেয়রদের কার্যালয় ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে কাজ করেছেন। তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও সংলাপ শুরু করেছেন। তাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছিলেন, তিনি জিতলে ধনীদের ব্যাপক বহির্গমন ঘটবে। তবে রিয়েল এস্টেট খাতের নেতারা সেই আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থক হিসেবে তাকে ইহুদি সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে হবে, যাতে তারা তার নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে অনুভব করে। সম্প্রতি তার এক নিয়োগপ্রাপ্ত সহযোগী পদত্যাগ করেছেন। কারণ জানা যায়, তিনি কয়েক বছর আগে ইহুদিবিরোধী মন্তব্যসহ কিছু টুইট করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ