অন্তর্বর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে:মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৯:০২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে:মির্জা ফখরুল

Manual7 Ad Code

অন্তর্বর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ উপস্থাপন করলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে, তখন সেটায় অনেক পার্থক্য। বিশেষ করে তারা যে নোট অব ডিসেন্টগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলো যেন সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, তেমনটা বলেছিলেন। এ ব্যাপারে তারা আস্থা-বিশ্বাস রেখেছিলেন। কিন্তু সেই আস্থা, বিশ্বাসের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি খুব পরিষ্কার বলতে চাই, আমরা নির্বাচন করবো, নির্বাচন করতে চাই। আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে  অন্তর্বর্তীকাল সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘোষণার সঙ্গে একমত হয়ে আমরা নির্বাচন চাই। সেই নির্বাচনকে আজকে বানচাল করার জন্য, সেই নির্বাচনকে বিলম্বিত করবার জন্য একটা মহল উঠে পড়ে লেগেছে। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন কথা-বার্তা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, গণভোট নির্বাচনের আগে করার কোনো সুযোগ এখন আর নাই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, সে কথা আমরা পরিষ্কার করে বলেছি। সেখানে দুইটা ব্যালট থাকবে একটি গণভোটের জন্য, আরেকটি  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। সুতরাং এই বিষয়ে কোনো দ্বিমত কারও থাকবে বলে আমি অন্তত মনে করি না।

Manual4 Ad Code

গণভোটের দাবিতে আন্দোলনরত দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যারা এই নিয়ে গোলমাল করছেন, রাস্তায় নেমেছেন। তাদের অনুরোধ করবো দয়া করে জনগণকে অনেক বিভ্রান্ত করেছেন অতীতে, অনেক করেছেন- সেগুলো আমি বলতে চাই না। একসময় এই দেশের সকল মানুষের চাহিদা ছিল পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হবে, আপনারা (জামায়াতে ইসলামী) সেটার বিরোধিতা করেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আজকে দয়া করে জনগণ যে নির্বাচন চায় সেই নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না। যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশের মানুষ কখনো তাদের ক্ষমা করে না, তারা ক্ষমা পায় না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা (জামায়াতসহ আন্দোলনরত দলগুলো) ওখান থেকে সরে আসুন। নির্বাচন করুন। নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হোক- এটাই আমরা সকলে চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই সংকট থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারি, সেদিকেই আমাদের যাওয়া দরকার, আমাদের যেতে হবে।ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের মিত্রদের নিয়ে যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি, একসঙ্গে কাজ করেছি- তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সরকার গঠন করতে চাই এবং খুব পরিষ্কার কথা আমরা বলেছি, আমরা একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই নির্বাচনের পরে। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। আসুন সবাই আমরা একসঙ্গে এ নির্বাচনকে উপলক্ষ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে করে আমাদের জনগণের একটা পার্লামেন্ট,  জনগণের একটা সরকার গঠন করি।

Manual6 Ad Code

বিএনপি’র বিরুদ্ধে সংস্কারবিরোধী অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যত সংস্কার সব বিএনপি’র হাত দিয়ে। আমরাই সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছি। আমরাসহ সকল রাজনৈতিক দল সংস্কার করতেই সনদে সই করেছে। আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার যে, আমরা অবশ্যই যে সংস্কারগুলোতে একমত হয়েছি, সেই সংস্কারগুলো অবশ্যই আমরা একমত হবো, আছি এবং সামনে ভবিষ্যতে সেগুলোই আমরা ইমপ্লিমেন্ট করবো যদি আমরা ক্ষমতায় আসি এবং আমরা যেগুলো পারিনি সেগুলো আমাদের ম্যানিফেস্টোতে নিয়ে এসে আমরা করবো।

এসময় আ স ম আবদুর রবের আশু রোগমুক্তি কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব। জেএসডি’র সহ-সভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন

 

Manual5 Ad Code

 

Manual3 Ad Code