ভূমধ্যসাগরের আরেক তরুণের অনাহারে মৃ ত্যু

প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরের আরেক তরুণের অনাহারে মৃ ত্যু

Manual6 Ad Code

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যুর খবর পেয়েছে তাঁর পরিবার। একই নৌকায় মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের সঙ্গে ওই তরুণও ছিলেন। মহিবুর রহমান (২০) নামের ওই তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার পরিবারে চলছে মাতম। ছেলের শোকে কাতর মা শয্যাশায়ী, ছোট ভাইকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

Manual7 Ad Code

Manual3 Ad Code

মহিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. নুরুল আমিন, মা মহিমা বেগম। তিন ভাই, দুই বোনের মধ্যে মহিবুর ছিলেন সবার বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর আয়েই চলত পুরো সংসার।

Manual8 Ad Code

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু দালাল তার ‘ভালো–মন্দ’ খবর নিশ্চিত করেনি। পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে নিশ্চিত করে। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ আহমদ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। মারুফ আহমদের ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়।

মহিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোহাম্মদ সুনু মিয়া বলেন, মহিবুর চার মাস আগে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। এরপর সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান। মাঝখানে তিনি খুব কষ্টে আছেন জানিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছিলেন পরিবারের কাছে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকার নবী হোসেনের মাধ্যমে তিনি গ্রিসে যেতে চেয়েছিলেন। নবী হোসেন লিবিয়া আছেন। দেশে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নান সব লেনদেন করেছেন। ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে দরিদ্র নুরুল আমিন জমি বিক্রি করেছেন, মহাজনি সুদে টাকা এনেছেন পাঁচ লাখ। মোট ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে দালালকে। রাজমিস্ত্রির কাজের সুবাদে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নানের পরিচয় হয়। পরে মন্নানই মহিবুরকে গ্রিসে যেতে উৎসাহিত করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ