ইহরাম ও তালবিয়ার কী প্রতিদান ঘোষণা করেছেন নবীজি (সা.)?

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬

ইহরাম ও তালবিয়ার কী প্রতিদান ঘোষণা করেছেন নবীজি (সা.)?

Manual3 Ad Code

হজ ও ওমরাহর সফরে সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় পরে ইহরাম অবস্থায় থাকা এবং তালবিয়া পড়ায় রয়েছে অসামান্য প্রতিদান। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট ভাষায় এ সবের অনেক প্রতিদান বর্ণনা করেছেন। সেই সব প্রতিদান কী?

হজ ও ওমরাহ পালনকারীর জন্য ইহরাম ও তালবিয়া দু’টি আমলই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। হজ ও ওমরার জন্য সেলাইবিহীন দুই কাপড় পরে ইহরাম যেমন আবশ্যক। তেমনি ইহরামের পর পুরুষের জন্য এক বার উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়া হজ ও ওমরার জন্য শর্ত। আর বার বার তালবিয়া পাঠকারীর জন্য রয়েছে সরাসরি জান্নাতের সুসংবাদ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণনায় ইহরাম ও তালবিয়ার ফজিলতসমূহ হাদিসের বর্ণনায় সুস্পষ্ট। তাহলো—

১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘কোনো মুমিন যখন ইহরাম অবস্থায় দিন কাটাবে, তখন সূর্য তার সব গুনাহ নিয়ে অস্ত (ডুবে) যাবে। আর যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজের তালবিয়া পাঠ করবে তখন তার ডানে-বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সবকিছুই তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।’ (তিরমিজি, তারগিব)

Manual5 Ad Code

২. হজরত সাহল ইবনে সাদ আস-সায়েদি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘কোনো ব্যক্তি যখন তালবিয়া পাঠ করে তখন তার ডানে ও বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যা কিছু আছে; যেমন— গাছপালা, মাটি, পাথর সব কিছু (তালবিয়া পাঠকারীর সঙ্গে সঙ্গে) তালবিয়া পড়তে থাকে।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

Manual1 Ad Code

৩. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘যে কেউ তালবিয়া পাঠ করবে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। আর যে কেউ তাকবির বলবে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। (সুসংবাদ সম্পর্কে) জানতে চাওয়া হলো- ইয়া রাসুলাল্লাহ! জান্নাতের সুসংবাদ? উত্তরে প্রিয়নবী (সা.)বললেন— ‘হ্যাঁ’।’ (তাবারানি, তারগিব)

Manual6 Ad Code

সুতরাং হজের সফরে হজ পালনকারীদের উচিত বেশি বেশি তালবিয়া পড়া। তালবিয়া পড়ার সময় তা ৪ নিঃশ্বাসে পুরুষরা উচ্চ স্বরে আর নারীরা নিম্নস্বরে পড়বেন-

لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।’

অর্থ: ‘আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির; আমি উপস্থিত, তোমার কোনো অংশীদার নেই; আমি উপস্থিত, নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা; অনুগ্রহ ও সম্রাজ্য সবই তোমার, তোমার কোনো অংশীদার নেই।’ (মুয়াত্তা, তিরমিজি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত হজ ও ওমরার সফরে ইহরাম অবস্থায় থাকার ও তালবিয়া পাঠের ফজিলত দান করুন। হজ পালনকারীদের হজ ও ওমরাহকে কবুল করুন। আমিন।

Manual7 Ad Code