আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: জামায়াত আমির

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২৬

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: জামায়াত আমির

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার যদি কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির সামনে মাথা নত করে, তবে তাদের ছেড়ে কথা বলা হবে না। আধিপত্যবাদ রুখতে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজ প্রস্তুত রয়েছে।  যুবসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণকে দেশের মর্যাদা রক্ষায় আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২০ জুন) বিকালে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে আজ নানা উসকানি দেওয়া হচ্ছে। পুশইন এর নামে একটি প্রতিবেশী দেশ তাদের নাগরিকদের আমাদের দেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আমাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) যখন সীমান্তে শক্ত হয়ে দাঁড়ায়, দেশের জনগণ তখন তাদের ডান হাত তথা শক্তিতে পরিণত হয়। এই ডান হাত দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত।

Manual4 Ad Code

তিনি প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম ও শান্তি হারাম হোক। একইভাবে কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে কালো হাত বাড়াবে, সেটাও আমরা বরদাশত করব না। যদি কেউ কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।

Manual2 Ad Code

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগামী দিনের এই সম্ভাব্য বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারের আত্মসম্মান বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। এই বিপ্লব হবে কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য। এ সময় তিনি একটি সুস্থ, দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সমাবেশে যুবকদের পাশাপাশি বয়োবৃদ্ধদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন- অন্যায়, আধিপত্যবাদ, চাটুকার, দুর্নীতিবাজ ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বয়সের ব্যবধান ভুলে সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে।

Manual8 Ad Code

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা মানুষকে বৈষম্যহীন সমাজ, সম্পদ লুণ্ঠন না করা, হত্যার রাজনীতি বন্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু তারা প্রতিটি ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রের সব বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে মানুষ খুন ও পঙ্গু করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছিল আয়নাঘর। ব্যাংক, বিমা ও শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠন করে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দম্ভোক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যারা একসময় দম্ভ করে বলতেন হাসিনা পালায় না, শেষ পর্যন্ত তীব্র জনস্রোতের মুখে সেই হাসিনাকেই অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। দুপুরের ভাত খাওয়ার রিজিকটুকুও আল্লাহ তার জন্য রাখেননি। গত ১৫ বছর যাদের সেবাদাসী হিসেবে কাজ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাদের কোলেই গিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও পড়ুন

সেই ঘটনার পাঁচ বছর পর মুখ খুললেন মামুনুল হক

সেই ঘটনার পাঁচ বছর পর মুখ খুললেন মামুনুল হক

 

Manual4 Ad Code

ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি কোনো ফয়সালা সংসদে না হয়, তবে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পিকার বলতে হয় না সেই পল্টনের মাঠ, বরিশালের মাঠ, চট্টগ্রামের মাঠ, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী কিংবা বগুড়ার মাঠ থেকে গণজাগরণ তৈরি হবে। আর সেই জাগরণী জনমতই সরকারে পরিণত হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্ণেল (অব.) ড. অলি আহমদ এবং মাওলানা মামুনুল হক।

সমাবেশে সম্মানিত অতিথি ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ