শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি

প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৬

শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি

Manual7 Ad Code

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি একমাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি ‘যৌক্তিক পদ্ধতি’ নির্ধারণ করবে।

Manual5 Ad Code

শুক্রবার সকালে সিলেটের সার্কিট হাউজে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

Manual7 Ad Code

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে তালা প্রদান নিয়ে আলোচনা সমালোচনার মধ্যে শুক্রবারের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহর উন্নয়ন ও দানের টাকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন- সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য, মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি এই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আর্থিক হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন সকলে৷ মাজার কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে একমত। সবার মতামতের ভিত্তিতে সবপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।

তিনি আরও বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। আপাতত বিদ্যমান কমিটি নিয়ম অনুযায়ী দানের টাকা গণনা করবে এবং তা চলমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।

Manual1 Ad Code

মাজার নিয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা পেছনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তবে কাজ করার দুটি পদ্ধতি আছে। একটি হলো- কাজ করা, আর আরেকটি হলো- সবাইকে নিয়ে কাজ করা। যাতে সবার অংশগ্রহণ থাকে। কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়। আমরা সেরকম উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে স্বচ্ছতাও আসবে, সবার অংশগ্রহণও থাকবে।

এর আগে, সার্কিট হাউসে রুদ্ধদ্বার সভায় দরগাহর ঐতিহ্য, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মাজার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

Manual7 Ad Code

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সাবেক ডিসি সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিতর্কের মধ্যেই গত রোববার বিকেলে তাকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ প্রজ্ঞাপনের পর ডিসিকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে বিভিন্ন সংগঠন।

ডিসির প্রত্যাহার হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন সোমবার সারওয়ার আলম মাজারে যান। বেলা দুইটার দিকে তাঁর নির্দেশনায় দানবাক্স ও সিলগালা করা ডেগগুলো খোলা হয়। টাকা গণনা শেষে সন্ধ্যায় জানানো হয়, আটটি ডেগ ও দানবাক্সে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৭ আনা স্বর্ণালংকার ও ১০ সৌদি রিয়াল মিলেছে। এসব টাকা হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের নামে ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এরপর থেকে মাজারের আয়ের স্বচ্ছতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।