ঢাকা ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬
সিলেটে গ্যাস সংকটের কারণে বহুমুখী চাপে সাধারণ মানুষ। সিএনজিচালিত যানবাহনগুলোর ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। পাম্পে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যানজট আরও তীব্র হয়েছে। পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। এতে টান পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। তবে আশার কথা, আগামী দু’একদিনের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটের সোবহানীঘাট সংলগ্ন উপকণ্ঠ এলাকায় অবস্থিত হক সাহেবের পাম্প হিসাবে খ্যাত বেঙ্গল গ্যাসোলিন। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার আগ থেকে এর সামনে গ্যাসের জন্য যানবাহনের সারি দীর্ঘ হতে শুরু করে। সকাল ৮টার আগে কোনো কোনো দিন এই লাইন এতই দীর্ঘ হচ্ছে যে চলে আসছে নগরীর নাইওরপুল পয়েন্ট পর্যন্ত।
গত কয়েকদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের প্রায় সবগুলো পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের সামনে এমন দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গ্যাস সংকট তীব্রতর হওয়ায় এই অবস্থা। পাম্পগুলোতে সরবরাহ কম হওয়ায় প্রতিদিন যানবাহনের সারি আরও লম্বা হচ্ছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে সিলেটসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে গ্যাস কিনতে গিয়ে চালকরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে যে গ্যাস পাচ্ছেন, তা দিয়ে তাদের ২/৩ ট্রিপের বেশি হচ্ছেনা। এ কারণে তাদের আয়-রোজগার কমেছে। কিন্তু যানবাহনের মালিকপক্ষকে ভাড়া ঠিকই আগের মতো দিতে হচ্ছে।
নিজেদের উপরের চাপ সামলাতে তারা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে যে গন্তব্যে খুশি মনে তারা যেতেন ৫০ টাকায়, সেই একই গন্তব্যে যেতে এখন অনায়াসে তারা এক থেকে দেড়শ’ টাকা আদায় করছেন। এ নিয়ে প্রায়ই সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে তাদের খটমটো লেগে যাচ্ছে।
চালকদের জবাব পরিস্কার, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে গ্যাস পাচ্ছেন তারা, তা দিয়ে বড়জোর ২/৩ ট্রিপ দেওয়া যায়। এরপর বসে থাকতে হয় বা গ্যাসের জন্য আবারও পাম্পের সামনে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়। এতে তাদের ট্রিপ কমে গেছে। কিন্তু মালিক পক্ষকে ঠিকই আগের মতো ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। টাকাটা আসবে কোথা থেকে? সেজন্য তারা বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক।
নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে জেল রোড এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া আগে ছিল ১০০ টাকা। এখন দিনে দু’শো আর রাতে আড়াইশ’ টাকা করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
ক্ষোভে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পেট্টোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেছেন ক্ষুব্ধ চালক ও যাত্রীরা।
এদিকে চালকদের আরও অভিযোগ, তারা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে গিয়ে দেখছেন প্রেসার কম। অনেক চালকের অভিযোগ, প্রেসার কম থাকায় বাতাস ঢুকে যাচ্ছে। এতে অযথা তাদের খরচ বাড়ছে। কেউ কেউ এমনটাও বলছেন, ১০০ টাকার গ্যাস কিনতে গিয়ে অন্তত কম হলেও ৩০ টাকার বাতাস কিনতে হচ্ছে তাদের।
এসব কারণে ক্ষুব্ধ সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক হেল্পপররা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পেট্টোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেছেন তারা। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অন্যান্য পেশার মানুষও।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও। বিশেষ করে শাক সব্জি ও তরকারির বাজারে রীতিমতো আগুন।
এরমধ্যেই আশার বাণী শোনালেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট। তবে আগামী দ ু’একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
Design and developed by sylhetalltimenews.com