বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৬

বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

Manual3 Ad Code

বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, শুক্র ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমছে না। স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ইইউ উত্থাপিত নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার বিষয়ক সমস্যাসমূহের মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও এর সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়; এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করলে সংকট তৈরি হয়। এ কারণে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। কার্গোর ধরন অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস, নন-হ্যাজার্ডাস, ফাস্ট-মুভিং ও স্লো-মুভিং পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এতে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে প্রতিদিন যত পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাস হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এর অন্যতম কারণ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমাধান নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে আসা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হতে পারে না। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানো সম্ভব। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে আলোচনার টেবিলে বসুন, হুমকি বা কর্মবিরতির পথে যাবেন না। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছে।

Manual5 Ad Code

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual2 Ad Code

 

Manual1 Ad Code