কথাটি শুনেই চমকে উঠলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২৫

কথাটি শুনেই চমকে উঠলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

Manual4 Ad Code

আমরা আপনার বাবার ভোটার’- কথাটি শুনেই চমকে উঠলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিলেট-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী। চমকে ওঠারই কথা। এখনো ভোটের মাঠে আছে তার পিতা খন্দকার আব্দুল মালিকের নাম। পিতার সূত্র ধরেই তাকে অনেকে চেনেন। সাদরে গ্রহণ করছেন। সিলেট সদর উপজেলার একটি মেঠোপথ ধরে হাঁটছিলেন। যাচ্ছিলেন একটি নির্বাচনী মতবিনিময় সভায়। পথিমধ্যে তাকে দেখে দৌড়ে এসে হাত মেলান কয়েকজন বৃদ্ধ। পিতার কথা বলতেই চোখ তুলে তাকান মুক্তাদির। বললেন, ‘আমাকেও পার করতে হবে।’ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ভোটের মাঠে প্রায়ই এ কথা শোনেন। সবচেয়ে বেশি শুনেছেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে। তখন পরিস্থিতি জটিল। কোনো কিছুই অনুকূলে নয়। তবে আশা জিইয়ে রেখেছিলেন ভোটাররা। ওই নির্বাচনে খন্দকার মুক্তাদির আওয়ামী লীগের প্রার্থীর শত বাধার মুখেও নির্বাচনী প্রচারণা চালান। প্রশাসনের ভয়ে সঙ্গে থাকতে পারেননি নেতাকর্মীরা। তবুও তিনি ছিলেন অবিচল। হেঁটেছেন একা একা। সিলেট সদর ও সিটি করপোরেশনের অনেক জায়গা যখন গিয়েছিলেন, তখন মানুষ তাকে সাদরে বরণ করেছিলেন। ‘খন্দকার সাহেবের’ ছেলে বলে সম্বোধন করেছিলেন। বিশেষ করে মুরুব্বিরা তাকে আগলে রাখেন। আর করবেনই না কেন? খন্দকার আব্দুল মালিক তো ছিলেন সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা। সিলেটে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন দলের জন্য। এক সময় সিলেট বিএনপি’র একক নেতাও ছিলেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুঃসময়েও কাণ্ডারি হয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে তৎকালীন সদর উপজেলার মানুষের মধ্যমণি ছিলেন খন্দকার আব্দুল মালিক। তার বদৌলতেই সিলেট সদর উপজেলা হয়ে উঠেছিল বিএনপি’র অন্যতম শক্তিশালী ভোট ব্যাংক। যেটি এখন পর্যন্ত বজায় রয়েছে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছে খন্দকার আব্দুল মালিক এখনো উন্নয়নের ‘আইডল’। করেছিলেন, সেটি সমাপ্ত হয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের হাত ধরে। এরপর সিলেটের উন্নয়নে নতুন করে উন্নয়নের কোনো রূপরেখা হয়নি। এবার মুক্তাদিরের কণ্ঠে সেই সুর। ভোটের দিকে নজরের চেয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে নজর বেশি। ইতিমধ্যে কেমন সিলেট চাই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন ভোটারের কাছে। জানতে চান- সিলেটকে নিয়ে মানুষের ভাবনা। এ প্রশ্নের উত্তর জানতে নগর জুড়ে সাঁটিয়েছেন ফেস্টুন। অনলাইনে প্রশ্ন দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। খন্দকার মুক্তাদির নিজেও বলেছেন, পরিবর্তন করতে হবে। সিলেটের তরুণরা কী চায়, কেমন সিলেট তাদের স্বপ্ন- এসব জানতে যেমন আগ্রহী তেমনি গ্রামের কৃষকের উন্নয়ন ভাবনা জানতে তিনি মাঠে রয়েছেন। আর জনগণের ভাবনা থেকেই পরিকল্পিত সিলেট গড়া হবে তার অঙ্গীকার।