নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত ৩

প্রকাশিত: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২৬

নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত ৩

Manual4 Ad Code

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানকালে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।

Manual4 Ad Code

 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বালেন্দ্র শাহকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রথম বড় ভাষণের মাধ্যমে তিনি সেই নীরবতা ভাঙেন। তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং ‘অশান্তির মেঘ সরাতে’ সহায়তা করার আহ্বান জানান।

Manual2 Ad Code

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় সীমান্তের কাছে সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মিছিল চলাকালে উচ্চস্বরে গান বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিবাদ দেখা দেয়। সেখান থেকেই পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়।

পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল বলেন, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন। কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় একটি বিক্ষোভ চলাকালে আরও একজন নিহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও সংঘর্ষ এড়াতে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সুনসারি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে।

Manual6 Ad Code

বালেন্দ্র শাহ বলেন, আমি সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিকভাবে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

বক্তব্যে তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন।

Manual6 Ad Code

পুলিশ জানিয়েছে, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কাফল বলেন, আমরা মাঠে থাকা সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছি এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও যে কোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, নেপালের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু। তবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।