ঢাকা ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর শুধু খুলনার শিশু-কিশোরদের জন্য নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের ছোট বন্ধুদের জন্য। দেশের প্রায় ৫০০টির বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোরেরা এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আগামী বছরের জুনে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা যেমন খেলাধুলায় দক্ষ, তেমনি নাচ, অ্যাক্রোবেটিকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও পারদর্শিতা দেখিয়েছে। অর্থাৎ খেলাধুলার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিতেও ভালো করা সম্ভব।
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পারো। কেউ নাচ করেছে, কেউ অভিনয় করেছে, কেউ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, পড়ালেখা ও খেলাধুলার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিতেও তারা দক্ষতা অর্জন করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর, প্রত্যেকেই এই বাংলাদেশের মালিক। এই দেশ তোমাদের। এই বাংলাদেশকে তোমাদের গড়ে তুলতে হবে, পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তিনি শিশু-কিশোরদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭ (সিজন-২)’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিকাল পৌনে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খুলনা মহানগরে এটিই ছিল তার প্রথম সফর।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের। শিশু-কিশোরদের শুধু পড়ালেখা করলেই হবে না, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষ হতে হবে। কেউ ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা অন্য পেশায় যাবে। তবে বিশ্বকে জয় করতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির জ্ঞানও অর্জন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন কুঁড়ির দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর নিবন্ধন করেছে। এ সংখ্যা প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশে আগ্রহী। সরকারের দায়িত্ব তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা, যাতে তারা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করতে চাই। পড়ালেখা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারলে তাদের সামনে বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ অন্য দেশের উদাহরণ অনুসরণ না করে নিজেই বিশ্বের কাছে শক্তিশালী ও সফল দেশ হিসেবে উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। স্টেডিয়ামে পৌঁছে গ্যালারিতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে ছুটে যান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে শিশু-কিশোরেরা। হাত নেড়ে অভিবাদন জানালে তিনিও তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় পুরো স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ির ১০টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া ক্রীড়াবিদদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে তার ছবি এঁকে উপহার দেন নায়না তাসনিম জামান। তাকে পবিত্র কুরআন শরিফও উপহার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মো. মাহফুজুল আলম খান। সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
৫০৩ উপজেলায় প্রতিযোগিতা, নিবন্ধন ১৬ লাখ ২৩ হাজার:
এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, সাঁতার, ভলিবল, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিস—এই ১০টি ইভেন্টে অংশ নেবে শিশু-কিশোররা। দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ শিশু-কিশোর। এর মধ্যে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩ জন বালক এবং ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৫ জন বালিকা। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ ছেলে এবং ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ মেয়ে।
প্রথম আসরের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, দ্বিতীয় আসরে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। প্রথম আসরে নিবন্ধন ছিল প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার। এবার তা বেড়ে ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে। আগামী বছরের মে বা জুনে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম আসরের বিজয়ীদের মধ্য থেকে ৪০ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে বাছাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ জন মেয়ে ও ১২ জন ছেলে। নির্বাচিত খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা নগরীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা স্টেডিয়াম ও সার্কিট হাউস এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি।
Design and developed by sylhetalltimenews.com