নতুন অধ্যাদেশ জারি হলেই বেকার হবেন ট্রাভেল এজেন্সির লাখো কর্মী

প্রকাশিত: ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২৫

নতুন অধ্যাদেশ জারি হলেই বেকার হবেন ট্রাভেল এজেন্সির লাখো কর্মী

Manual6 Ad Code
সিলেট অলটাইম নিউজ :বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত নতুন খসড়া অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এই আইন বাস্তবায়নের দিনই ট্রাভেল এজেন্সি, হজ এজেন্সি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির লাখ লাখ দক্ষ জনবল একদিনেই বেকার হয়ে যাবে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে ট্রাভেল এজেন্সি, হজ এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন আটাবের সাবেক সভাপতি এস. এন. মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে দেশের প্রায় ছয় হাজার ট্রাভেল এজেন্সি, ১৪শ হজ এজেন্সি এবং ২৭শ রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ নতুন অধ্যাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনার জন্য এজেন্সিকে আয়াটার টিকিট সেলিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে হবে। অথচ দেশে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সি থাকলেও এর মধ্যে মাত্র এক হাজারের মতো এজেন্সি আয়াটায় যুক্ত। ফলে নতুন অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হওয়ার দিনই বাকি ট্রাভেল এজেন্সিগুলো কার্যত ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবে। তাদের ওপর নির্ভরশীল এজেন্সিগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ট্রাভেল এজেন্সি, হজ এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাখ লাখ দক্ষ জনবল বেকার হবে।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নতুন অধ্যাদেশে এমন সব ধারা সংযোজন করা হয়েছে যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করবে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের তথ্যাদি দাখিল বাধ্যতামূলক করা, ঋণসংক্রান্ত সিআইবি অনুমোদন, অফলাইনে ১০ লাখ এবং অনলাইনে এক কোটি টাকা ব্যাংক জামানত রাখা, বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রদানের শর্তে লাইসেন্স নবায়ন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর শর্ত আরোপ। এসব বিধান বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং সেগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনে।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব জানান, বিশ্বের সব দেশে ট্রাভেল এজেন্সির এজেন্ট-টু-এজেন্ট (বিটুবি) ব্যবসার প্রচলন রয়েছে। তবে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিটুবি ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ করা হচ্ছে। অর্থাৎ এক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে অন্য ট্রাভেল এজেন্সির টিকিট ক্রয়-বিক্রি করা যাবে না। বিটুবি বন্ধের ফলে সব ট্রাভেল এজেন্সিকে আয়াটা নিতে হবে, যার খরচ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটের জন্য আরও অতিরিক্ত ২২ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। ৯০ শতাংশ ট্রাভেল এজেন্সির এত টাকা নেই। এর ফলে এসব এজেন্সিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

Manual6 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে মালিকরা বিদেশে পাড়ি জমালেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা পূর্বেই অনুরোধ করেছিলাম নীতিমালা না হওয়া পর্যন্ত অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা স্থগিত রাখতে। কিন্তু তা না করায় প্রতারকরা নির্বিঘ্নে দেশ ছাড়তে পেরেছে এবং এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ