যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা বিলুপ্তির প্রস্তাব, প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক টেক নিয়োগে

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা বিলুপ্তির প্রস্তাব, প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক টেক নিয়োগে

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ–১বি ভিসা ফি সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি মূলত কম বেতনের এইচ-১বি আবেদন কঠিন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিন শিগগিরই একটি বিল পেশ করতে যাচ্ছেন, যা এইচ-১বি প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ বিলুপ্তির প্রস্তাব করবে। বিলটি পাস হলে ভিসা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিবাসীদের দেশে ফিরে যেতে হবে এবং গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের পথও বন্ধ হবে।

বিশ্লেষক ও শিল্পপতিরা মনে করেন, নতুন নীতির ফলে শুধু গভীর প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরাই বিবেচনায় আসবেন।

ফিউচারেন্সের সিইও রাঘব গুপ্তা বলেন, ‘এইচ-১বি নীতির কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক টেক নিয়োগকে বিশেষ দক্ষতার দিকে সরিয়ে দিচ্ছে। এআই, ডেটা, ক্লাউড ও সাইবার সিকিউরিটি ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ তৈরি হবে, সাধারণ ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হবে না।’

ম্যাভেরিক সিস্টেমস লিমিটেডের সিওও সুব্রামানিয়ান এন এন বলেন, ‘কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং হাব প্রসারিত করছে এবং স্থানীয় টেক ট্যালেন্ট তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। গত পাঁচ বছরে এইচ-১বি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’

নতুন নীতির ফলে ভারত ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার অফশোর ও হাইব্রিড টিমের গুরুত্ব বাড়বে।

নিউটন স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা নিশান্ত চন্দ্রা বলেন, ‘নতুন ফি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিসানির্ভর নিয়োগ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। আঞ্চলিক আপস্কিলিং বাড়বে এবং ভারত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নীতি পরিবর্তন গ্লোবাল কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দেবে, ভিসানির্ভর নিয়োগ কমবে এবং স্কিল-ফার্স্ট, ডিস্ট্রিবিউটেড টেক টিম বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া, এশীয় দেশে অপারেশনাল খরচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় ৪০–৬০ শতাংশ কম হওয়ায় কোম্পানিগুলো সেখানে বড় টিম গঠন করতে আগ্রহী হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিভার প্রয়োজন আছে। জটিল খাতে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে, দীর্ঘদিন বেকার থাকা মার্কিন নাগরিকদের অল্প সময়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করা সম্ভব নয়।’