ঢাকা ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২৫
নিউজ ডেস্ক : ব্যাংকে টাকা রেখে সময়মতো না পেয়ে হতাশায় ভূগছেন গ্রাহকরা। নিজের জমা রাখা টাকা তুলে আনতে চেক নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ক্ষেত্রবিশেষে যৎসামান্য অর্থ দিয়ে গ্রাহককে পরে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরা। আবার প্রবাস থেকে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পাঠানো রেমিটেন্সও আর আগের মতো যথাসময়ে গ্রাহকদের একাউন্টে ‘ক্যাশ ইন’ হচ্ছে না। এ নিয়ে ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইদানিং এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে সিলেট নগরির বিভিন্ন ব্যাংকে।
সম্প্রতি নগরির দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক দম্পত্তি দেশে আসেন। তাদের একাউন্ট রয়েছে নগরির তালতলাস্থ ইসলামী ব্যাংক সিলেটের প্রধান শাখায়। দেশে আসার আগে প্রবাস থেকে অর্থ পাঠিয়েছেন নিজের একাউন্টে। এর পাশাপাশি দেশে থাকা তাদের বিভিন্ন ব্যবসা ও বাসাভাড়ার আয়লব্দ অর্থ নিয়মিত ওই একাউন্টে জমা হচ্ছে। কিন্তু দেশে আসার পর ওই দম্পত্তি নিজেদের একাউন্টের টাকা তুলতে চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেয়া হচ্ছে না। নানা টালবাহানা করে তাদের বার বার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে, না হয় অল্প টাকা দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা (?) করা হচ্ছে। হয়রাণীর শিকার ওই দম্পত্তি বাধ্য হয়ে নগরির দক্ষিণ সুরমা অংশে অন্য একটি ব্যাংকে নতুন একাউন্ট চালু করেছেন। নতুন একাউন্ট চালু করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের তারা ইসলামী ব্যাংকের চেক দিয়েছিলেন নিজেদের নতুন একাউন্টে জমা করার জন্য। কিন্তু নতুন একাউন্ট চালু করা ওই ব্যাংকের কর্মকর্তারা ইসলামী ব্যাংকের কথা শুনে চেক নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এখন প্রবাসী ওই দম্পত্তি নিজেদের একাউন্টে প্রয়োজনের চেয়েও বেশী টাকা স্বত্বেও পড়েছেন অর্থের অভাবে। ওই দম্পত্তি এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার এ অনাকাঙ্খিত অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নগরির একজন সিনিয়র সাংবাদিকের ইউরোপ প্রবাসী ছেলে পিতার জরুর চিকিৎসার জন্য গত বুধবার অন্য একটি ব্যাংকের একাউন্টে টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ৬ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে ইউরোপ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এসে ‘ক্যাশ ইন’ হয়নি। এ নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও কোন সদুত্তর দিতে পারছে না। অথচ বিগত সময়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর ঘন্টাখানেকের মধ্যে কাঙ্খিত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করা যেতো। এরফলে ওই সাংবাদিককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইদানিং আরো অনেক ব্যাংক গ্রাহককে অনুরূপ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রবাস থেকে আত্মীয়-স্বজন রেমিট্যান্স পাঠালেও সময়মতো ব্যাংক একাউন্টে ‘ক্যাশ ইন’ হচ্ছে না বা ‘ক্যাশ ইন’ হলে গ্রাহককে টাকা দিতে নানা অজুহাত দেখিয়ে বিলম্বিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে নানা রকমের কথা শোনা যাচ্ছে, যা অনাকাঙ্খিত।
ব্যাংকের এরূপ গাফিলতি বা উদাসীনতার কারণে অনেক প্রবাসী পরিবার এখন থেকে ‘বিশ্বব্যাপী অর্থ স্থানান্তর পরিষেবায় নিয়োজিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে’র দারস্থ হচ্ছেন। আবার প্রবাসী আত্মীয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো নিজেদের জরুরী প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে পুনরায় হুন্ডির আশ্রয় নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন। যা সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষতির হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিবেচনায় নিয়ে সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নিলে জনদুর্ভোগ যেমন লাঘব হবে, তেমনি সরকারও উপকৃত হবে।
Design and developed by sylhetalltimenews.com