প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদন্ড

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২৫

প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদন্ড

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ রাজউক প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়; মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা করে। তিন মামলার প্রতিটিতেই শেখ হাসিনা আসামি। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও পৃথক মামলায় আসামি হিসেবে চার্জশিটভুক্ত। মামলার শুরু থেকেই তাঁরা পলাতক। রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

প্রথম মামলাটি দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন ১৪ জানুয়ারি দায়ের করেন, যেখানে শেখ হাসিনাসহ আটজনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। দ্বিতীয় মামলাটি একই দিনে দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করেন। পরে তদন্তে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে। এ মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধান আসামি। তৃতীয় মামলাটি ১২ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া করেন, যেখানে শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে পুতুলসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।

এই তিন মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—পুরবী গোলদার, শফি উল হক, আনিছুর রহমান মিঞা, নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, কাজী ওয়াছি উদ্দিন, শহীদ উল্লাহ খন্দকার, নায়েব আলী শরীফ, তন্ময় দাস, কবির আল আসাদসহ আরও অনেকে। এছাড়া সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদও তিন মামলাতেই বিভিন্ন অভিযোগে চার্জশিটভুক্ত।

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ তিন মামলায় সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। আজ আদালত তিন মামলারই রায় ঘোষণা করেন, যা দীর্ঘদিন আলোচিত রাজউক প্লট দুর্নীতি মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।