এক এক করে কথা রাখছেন সিলেটের কমিশনার

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৫

এক এক করে কথা রাখছেন সিলেটের কমিশনার

Manual3 Ad Code

সিলেট অলটাইম নিউজ :যে কথাটি তিনি বলেছিলেন দায়িত্ব নেওয়ার সময়, সেটি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন— নগরীর কোনো হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ মিললে সেটি সঙ্গে সঙ্গে সিলগালা করে দেওয়া হবে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তার সেই ঘোষণাই এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, কথার পরেই এসেছে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। একের পর এক ভাঙছে ‘মধুচক্র’।

নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সন্ধ্যা নামলেই অনেক হোটেল রূপ নিত গোপন আস্তানায়, যেখানে তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত আর অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযোগ ছিল, এই ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছিল দালালচক্র, যাদের ছায়ায় কিছু হোটেল মালিকও ছিলেন জড়িত। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও বাস্তব পদক্ষেপ ছিল না। কিন্তু এবার ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর তালতলা এলাকার হোটেল বিলাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নারী-পুরুষকে আটক করে। এর মধ্যে ছিলেন একজন নারী ও চারজন পুরুষ। অভিযোগ— তারা সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। অভিযানের পরই হোটেলটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয় সিলেট মহানগর পুলিশ।

Manual7 Ad Code

এর আগে ১৩ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমার সিলেট রেস্ট হাউস সিলগালা করা হয় একই অভিযোগে। আর সর্বশেষ এক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে নগরীর আরও দুটি  হোটেল— গ্রান্ড সাওদা হোটেল এবং আল সাদী হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই অভিযানে মোট ১২ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়।

Manual3 Ad Code

এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নগরীর সব হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করে সতর্কবার্তা দেন— “যে হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পাওয়া যাবে, সেটি সিলগালা করা হবে। কেউ রেহাই পাবে না।”

এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় পুলিশি অভিযান। গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি পোশাকধারী সদস্যরাও নিয়মিত মাঠে নামছেন। অভিযোগ উঠলেই অভিযান চলছে, এবং সত্যতা মিললেই হোটেল বন্ধ।

Manual2 Ad Code

তবে পুলিশি অভিযানের এই ধারাবাহিকতা শুধু আইন প্রয়োগ নয়— সামাজিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এমন অভিযান নিয়মিত থাকলে সিলেট আবারও তার নৈতিক মর্যাদা ফিরে পাবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। গত সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা চাই নগরবাসী নিরাপদ এবং নৈতিকভাবে সুরক্ষিত পরিবেশে থাকতে পারে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে যাতে হোটেলগুলোতে অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়।’

বছরের পর বছর ধরে নগরীর মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, কাজলশাহ, আম্বরখানা ও তালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল তথাকথিত গোপন ‘মধুচক্র’। এখন সেই চক্রের ওপর পড়েছে পুলিশের কঠোর নজর। প্রতিটি অভিযানে দেখা যাচ্ছে, কমিশনারের কথার বাস্তব রূপ— অভিযোগ পেলেই অভিযান, প্রমাণ মিললেই সিলগালা।

Manual2 Ad Code