ঢাকা ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৬
সিলেটে ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে| গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এর আয়োজন করা হয়| উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ, সিলেটের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়|
উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ সিলেটের সভাপতি ও সিংহবাড়ির সন্তান জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দনের সভাপতিত্বে, শিক্ষক ও লেখক সঞ্জয় কুমার নাথ এবং শাশ^তী ঘোষ সোমার যৌথ সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী| প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সম্মানিত অতিথি ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজেশ ভাটিয়া, ˆদনিক আগামীর সময়ের আবাসিক সম্পাদক আহমেদ নুর| উপিস্থিত ছিলেন ড আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, গবেষক সুমনকুমার দাশ, গল্পকার জামান মাহবুব, সিলেট বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুন চন্দ্র পাল, তথ্য চিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে, সমাজসেবি নিরেশ চন্দ্র দাশ, কবি সুমন বনিক, কবি পুলিন রায়, বিনয় ভূষণ তালুকদার, জিডি রুমু, সমাজসেবি শিলা সাহা, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জয়তী ঘোষ লোনা, সুমন চন্দ্র তালুকার, অপূর্ব কুমার দাস, আব্দুল হাই,শিপ্রা রানী নাথ, নীলকণ্ঠ দাস ও শংকরী দাস প্রমুখ| সিংহবাড়ির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রভাতী সিংহ মজুমদার, পরমা সিংহ মজুমদার| এছাড়া সিলেটের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন|
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেটে অবস্থান করেছিলেন| এসময় তিনি নগরের চৌহাট্টাস্থ ঐতিহ্যবাহী সিংহবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, যা সিলেটবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়|’
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন, জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন| তিনি বলেন, ‘কবি নজরুলের সিলেট আগমন শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে| কবির স্মৃতি, সাহিত্য ও সংগীতচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য|’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ইতিহাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান চিরস্মরণীয়| সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অগ্নিঝরা বাণী তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা আজও সমাজকে আলোকিত করছে|’
তারা বলেন, ‘নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, দ্রোহ, মানবমুক্তি ও চেতনার কবি| তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ|’
বক্তারা আরও বলেন, ‘১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কবির সিলেট আগমন এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়| বিশেষ করে সিংহবাড়িতে তাঁর অবস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা আজও মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে| সেই ইতিহাস ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে|’
তারা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, অসহিঞ্চুতা ও সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্যে নজরুলের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে| তাঁর রচনা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে| তাই নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে|’
বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে| পাশাপাশি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ইতিহাস নতুনভাবে আলোচনায় আসবে|’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে কবির বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরা হবে বলেও জানান তারা|
অনুষ্ঠানে প্রথম পর্ব শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়| উদ্বোধনী সংগীত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর পরিবেশিত হয় নজরুল সংগীত| এতে দলীয় ও একক পরিবেশনায় অংশ নেন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সিলেট| শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হিমাংশু বিশ্বাস, সুকোমল সেন ও বিজন কুমার রায়| এছাড়া ললিতকলা একাডেমি, সিলেটের পরিবেশনায় ছিল নৃত্য, যার পরিচালনায় ছিলেন, বিপ্রদাশ ভট্টাচার্য| সঙ্গীত নির্দেশনায় ছিলেন প্রদীপ দে| এ পর্বে আরও পরিবেশিত হয় ‘সুর ও বাণী, সিলেট’ এবং ‘সুরের ভুবন, সিলেট’-এর পরিবেশনা| পরিচালনায় ছিলেন পদ্মীনী ইমন ও মনোজ কান্তি ভট্টাচার্য মান্না|
নজরুল সংগীতের একক পরিবেশনায় অংশ নেন ডা. বর্ষা মজুমদার পাপড়ি ও অরুনিমা দাশ, আনন্দলোক| আবৃত্তি পরিবেশন করেন জ্যোত্যি আচার্য, পরিচালক চারুকার, এবং সুকান্ত গুপ্ত পরিচালক শ্রুতি|
দলীয় নৃত্যে অংশ নেয় ‘নৃত্যরথ’| পরিচালনায় ছিলেন পপি দাশ| নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন ললিত মঞ্জুরী| বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন, জ্যোতির্ময় ধর সৌরভ, কী-বোর্ডে সুদীপ চক্রবর্তী এবং অক্টোপ্যাডে সুদীপ পাল, তবলায় প্রসেন রায়|
দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় | এ পর্বে পরিবেশিত হয় ¯^রচিত বন্ধনা| পরিবেশনায় ছিলেন, ডা. শর্মিলা সেন উর্মি, অনিরুদ্ধ সেন| তবলায় সহযোগিতা করেন ডা. অরিজিৎ সেন দীপ| এতে সরাসরি নজরুলের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন করুণ দাস
Design and developed by sylhetalltimenews.com