সিলেটে যন্ত্র*ণায় কাতর খাদিজা, প্রকাশ্যে আসা*মিরা

প্রকাশিত: ১২:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

সিলেটে যন্ত্র*ণায় কাতর খাদিজা, প্রকাশ্যে আসা*মিরা

Manual8 Ad Code

সিলেটে এসিড সন্ত্রাসের শিকার খাদিজা তার শিশু সন্তান অসহনীয় যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন আর অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছেনা

খাদিজা বেগম (৪০) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডের মোগলাবাজার থানাধীন ললমাটিয়া ষাটঘর এলাকার বাসিন্দা এমরান মিয়ার (৪৩) স্ত্রী। তারা ওই এলাকার পর্তুগাল প্রবাসী নোমান খানের সম্পত্তি দেখাশোনা করেন এবং তার একটি প্লটে বাস করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সঞ্জয়পুর গ্রামে।

 

Manual6 Ad Code

জানা গেছে, ওই প্রবাসীর সম্পত্তি দখলে মরিয়া একটি চক্র সবসময় তাকে ওই প্লটটি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিতো। তিনি তা অমান্য করে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৪ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে এমরান পাশের একটি দোকানে পান খেয়ে ফিরে আসার সময় দেখেন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যাচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের শিববাড়ী পৈত্যপাড়ার আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে জিয়াউর রহমান (৪০), লালমাটিয়া ষাটঘর এলাকার আলকাছ মেম্বারের ছেলে রাসেল আহমদ (৩৫) ও দক্ষিণ সুরমা থানার জৈনপুর চান্দাই এলাকার সুনু মিয়ার ছেলে সুজন(৩০)।

Manual4 Ad Code

নিজের ঘরে গিয়ে ১১ বছরের ছেলে বায়েজিদ ও স্ত্রী খাদিজার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে নিজে প্রতিবেশিদের ডেকে এনে এসিড ছোঁড়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। ‌‌দ্রুত তাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং পরে মোগলাবাজার থানায় একটি অভিযোগ (নং ৬/১৭/৫/২৬) দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লিখিত তিনজনকে আসামি করেন।

 

তবে আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় গত ৪ জুন এমরান সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনারের কাছে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল আলমকে পরিবর্তন করার অনুরোধ জানিয়ে একটি আবেদন করেন।

 

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিরা এসআই রুবেলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করছেন। তারা প্রকাশ্যে থেকে মামলা তুলে না নিলে আরও বড় ক্ষতি করার, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার সিলেটভিউর সাথে আলাপকালে এমরানের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে এবং ধারাবাহিকভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।

 

Manual5 Ad Code

এদিকে সূত্রগুলো জানিযেছে, খাদিজার পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে একেবারেই ঝলসে গেছে। যে কেউ দেখলে ভয়ে শিউরে উঠবেন। সম্প্রতি ডাক্তার জানিয়েছেন, তার পা কেটে ফেলতে হতে পারে। ছেলে বায়েজিদের অবস্থা তুলনায় কিছুটা ভালো হলেও এখনো প্রতিদিন দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে তাকে।

 

এদিকে এমরান দাবি করেন, পুলিশ আসামি ধরছেনা। বরং সিলেট শহর ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েই যাচ্ছে তারা। বউ বাচ্চার এই করুণ অবস্থা দেখেও প্রশাসন নিরব। অন্তত আসামি ধরা পড়লেও মনকে একটু বুঝানো যেত।

আসামিদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল আলম বলেন, তদন্ত চলছে।

তিনি আসামিদের ইচ্ছা করেই ধরছেন না, তারা প্রকাশ্যে ঘুরছে- বাদী এমরানের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

 

তবে বলেন, থানায় গিয়ে কথা বললে এ ব্যাপারে তিনিি বিস্তারিত বলবেন।

Manual4 Ad Code

এ ব্যাপারে মোগলাবাজার থানার ওসি (তদন্ত) মো. এরশাদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, না এখনো পরিবর্তন হয়নি। তবে কাজ চলছে।

 

এদিকে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত রাসেলের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ