মরদেহ ফেরাতে প্রবাসীদের উদ্যোগ, শুক্রবার দেশে ফিরছেন কামরান

প্রকাশিত: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬

মরদেহ ফেরাতে প্রবাসীদের উদ্যোগ, শুক্রবার দেশে ফিরছেন কামরান

Manual2 Ad Code

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ওসমানীনগরের প্রবাসী মো. শামসুল ইসলাম কামরানের মরদেহ আগামী শুক্রবার বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় মরদেহ পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও সংগ্রহ করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের সেন্ট্রাল মসজিদে জোহরের নামাজের পর কামরানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্তুগালের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। জানাজা শেষে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

Manual7 Ad Code

নিহত কামরানের মামাতো ভাই ও পর্তুগালপ্রবাসী আবদুল কায়ুম জানান, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য তারা প্রথমে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে দূতাবাস থেকে জানানো হয়, আগের অনেক আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং এ ধরনের বিষয়ে সহযোগিতারও সীমাবদ্ধতা আছে। পরে তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

Manual6 Ad Code

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ইউরোর বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার মরদেহ দেশে পাঠানোর আগ পর্যন্ত আরও কিছু অর্থ সংগ্রহ হবে বলে আমরা আশা করছি।

Manual4 Ad Code

এদিকে, পর্তুগাল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি রনি মোহাম্মদ বলেন, আমি প্রায় ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালে বসবাস করছি। এই সময়ে মানুষের সহযোগিতায় আমরা অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। এবারও কামরানের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সবাই আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, আমরা প্রবাস থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাই। অথচ কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য মানুষের কাছে চাঁদা তুলতে হয়। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রনি মোহাম্মদ বলেন, আমি একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, ভবিষ্যতে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেলে যেন তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য মানুষের কাছে চাঁদা তুলতে না হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের উদ্যোগেই যেন মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি।

নিহত শামসুল ইসলাম কামরানের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের খাগদিওর গ্রামে। তিনি প্রয়াত মোতালিব আলীর তৃতীয় সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে তিনি দেশে গিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের তিন মাস পর আবার কর্মস্থলে যোগ দিতে পর্তুগালে ফিরে যান। উন্নত জীবনের আশায় প্রবাসে গেলেও সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই গত শনিবার রাতে পর্তুগালের সেতুবাল জেলার আলমেদা এলাকায় নিজ কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।