বিয়ানীবাজারে বাবার হাতে মেয়ে খু নে র নেপথ্যে …

প্রকাশিত: ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬

বিয়ানীবাজারে বাবার হাতে মেয়ে খু নে র নেপথ্যে …

Manual1 Ad Code

প্রেম- ভালোবাসা, পারিবারিক অমিল ও সামাজিক চাপের জটিল বাস্তবতায় বিয়ানীবাজারে নৃশংসভাবে মেয়েকে হত্যা করেছেন তার আপন বাবা। রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর রায়গড় এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক, আবু বক্করের মেয়ে।
জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের সময় রিয়া নানাবাড়ির পুকুরঘাটে গোসল করতে যান। এ সময় তার বাবা আবু বক্কর সেখানে গিয়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে রিয়ার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুকুরঘাটের সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে ছিল। ঘাতক বাবা গাড়ি চালিয়ে পলাতক পালিয়ে যায়।

Manual3 Ad Code

 

সূত্র জানায়, নিহত রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন আহমদ নামের এক তরুণের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অল্প বয়সে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টি মানতে পারেননি তার বাবা। তবে রিয়াকে দমানো যায়নি। সবার অমতে বছরখানেক আগে বিয়ে করেন শাহিনকে। এরপর দাম্পত্য জীবনে সাংসারিক কলহে বিভক্ত হয় যান তারা। রিয়ার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপারা ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে নিজের নানাবাড়িতে অবস্থান করতে শুরু করেন।
সরেজমিনে জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে রিয়া আবারও স্বামী শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দমিয়ে রাখেন। এরপর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। বাবার কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও এসব বিষয়ে বাড়াবাড়ি করায় সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয় পরিবারকে। এতে ক্ষোভ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই আবু বক্কর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী জানান, এই হত্যাকান্ডে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক পিতাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Manual5 Ad Code

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির জানান, এ ঘটনায় নিহত রিয়ার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনো বক্করকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি।

Manual8 Ad Code

 

Manual6 Ad Code