ঢাকা ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৬
সুরঞ্জিত সেন হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল এবং দীর্ঘদিন কারাবন্দী সাবেক ছাত্র জমিয়ত নেতা হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ (নিমু)-এর অবিলম্বে মামলা থেকে খালাস ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সিলেটের সাধারণ জনগণ ও সচেতন আলেমসমাজ।
শুক্রবার (২৬ জুন) বাদ জুমা সিলেট কোর্ট পয়েন্ট থেকে “সাধারণ জনগণ ও সচেতন আলেমসমাজ, সিলেট”-এর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী হাফিজ মাওলানা সৈয়দ সালিম আহমদ কাসিমী।
সংগঠনের জনমত কো-অর্ডিনেটর হাফিজ আব্দুল করিম দিলদার এর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন, একই মামলায় একই ধারায় অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিরা খালাস পেলেও একমাত্র হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ (নিমু)-কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা তাদের মতে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য। তারা প্রশ্ন রাখেন, “একই মামলা, একই ধারা, অন্য সবাই খালাস পেলে নাঈম কেন জেলে?” বক্তারা দাবি করেন, এই রায় বাতিল করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, তারা এ রায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রায় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তির দাবি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
সমাবেশে বিশিষ্টজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন- সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খলিলুর রহমান, মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, জামেয়া দারুল হুদার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা ইসমত উল্লাহ সিদ্দিকী, দারুসসালাম মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা আখতারুজ্জামান তালুকদার, সিয়ানাহ ট্রাস্টের সভাপতি মুফতি জিয়াউর রহমান, কালান্তর প্রকাশনী ও বুখারা মিডিয়ার প্রোপাইটর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কবির আহমদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা মীম সুফিয়ান, মাওলানা এমাদ উদ্দিন সালীম, এম বেলাল আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মনসুর, মাওলানা আব্দুস সালাম, রংমহল টাওয়ার ব্যবসায়ি সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল গফুর প্রধান, মুফতি সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আহমাদুল হক উমামা, মাওলানা এরশাদ খান আল হাবীব, মাওলানা মিনহাজ সিরাজ, মাওলানা নোমান বিন আফসার, মাওলানা মাহফুজ বিন আব্দুল হাফিজ, সিলেট ছাত্র মজলিস সভাপতি রেজওয়ান আহমদ, নাঈম আহমদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, দিলদার হোসেন, আব্দুল কাদির, খলিলুল্লাহ মাহবুব ও খুবাইব আহমদ প্রমুখ
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সিলেটের সাধারণ জনগণ ও সচেতন আলেমসমাজের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়- হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ নিমুর মুক্তি দিয়ে সিলেট সুনামগঞ্জসহ দেশব্যাপী যে দাবানল জ্বলছে তা অবিলম্বে নিবারণ করবে সরকার। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তি দিতে টালবাহানা করা হয়, এরপরও যদি বিচার বিভাগ এবং সরকার আমাদের দাবি না মানেন, হাফিজ সৈয়দ নাইম আহমদ আরিফ নিমুকে অন্যান্য আসামীদের মতো খালাস এবং মুক্তি না দেন তাহলে সিলেটের এই কোর্ট পয়েন্ট থেকে কারাগার অভিমুখে গণপদযাত্রা সহ সাধারণ জনগণ ও সচেতন আলেমসমাজকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসুচি দিতে বাধ্য হবে সিলেটবাসী।
এদিকে- হাফিজ নাঈমের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে যুব জমিয়ত বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ জেলার উদ্যোগে সভাপতি হাফিজ তাহা হুসাইন, সেক্রেটারি ওবায়দুল হক চৌধুরীর পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জমিয়তের প্রেসিডিয়াম সদস্য আযাদ দ্বীনি এদারা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা শায়খ আব্দুল বাছীর।
এছাড়াও ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সৈয়দপুরের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথপুর সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র জমিয়ত শাখা। উক্ত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা হাফিজ নাঈমের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত-এর জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৮নম্বর আসামি হওয়ার পরও একমাত্র নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড এবং বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, গুইপ জিকে গৌস, এমপি লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্যদেরকে খালাস দেন। এ রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশ করতেছে সিলেটের সাধারণ জনগণ ও সচেতন আলেমসমাজ।
Design and developed by sylhetalltimenews.com